লক্ষ্মীপুরে গনপরিবহনে স্বাস্হ্যবিধি মানা হচ্ছেনা অথচ গুনতে হচ্ছে ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: করোনার কারণে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে আগেই। বাসায় বসে অফিস করার সুযোগও বাতিল করেছে সরকার। পুরোদমে শুরু হয়েছে অফিস-আদালত। গণপরিবহন ও রাজপথ ফিরেছে পুরনো রূপে। করোনাকালের সবকিছুর বদল হলেও বদলায়নি গণপরিবহনে ভাড়া। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রেখে গণপরিবহন পরিচালনার জন্য ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করে সরকার। কিন্তু শতভাগ আসনে যাত্রী নিচ্ছে পরিবহনগুলো।
তবে ভাড়া ফেরেনি আগের জায়গায়। বাড়তি ভাড়াই নিচ্ছে তারা। এ নিয়ে যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যেসব শর্তে করোনাকালীন সময়ে গণপরিবহন পরিচালনা শুরু করা হয় সেসবের কিছুই মানা হচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত ৫০ শতাংশ আসনের পরিবর্তে পরিবহনের সবকটি আসনে যাত্রী বসিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দাঁড়িয়েও যাত্রী পরিবহন করতে দেখা গেছে। কিন্তু ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ। তবে কখনও কখনও সরকার ঘোষিত বর্ধিত ৬০ শতাংশও আদায় করা হয়। এ নিয়ে যাত্রী ও পরিবহন পরিচালকদের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডাও হতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের দাবি, যেহেতু স্বাস্থ্যবিধি ও সরকার ঘোষিত কিছুই মানা হচ্ছে না, তাই আগের ভাড়ায় ফেরা উচিত।বাড়তি ভাড়া নেওয়া অযৌক্তিক বলে বলে অনেকে মনে করেন।
লক্ষ্মীপুরের বাস টার্মীনাল,ভোলা বরিশাল মুজুচৌধুরী ফেরীঘাট , রায়পুর ,রামগতি রামগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, সকালে থেকে প্রতিটি পরিবহনের সবকটি আসন ভর্তি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। মালিকদের কাছে পর্যাপ্ত পরিবহন থাকলেও তারা কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সবকটি পরিবহনে যাত্রী পারাপার করছে বলে অভিযোগ অনেক যাত্রীর। লক্ষ্মীপুর ঝুমুর এলাকায় শাহী পরিবহন ‘ইকোনো, জোনাকী ,ঢাকা এক্সপ্রেস, যমুনা, অনন্দ পরিবহনরে সুপারভাইজারেরা অতারিক্ত ভাড়া আদায়ে মালিক পক্ষকে দায়িকরে বলেন , রাস্তাঘাটে অনেক মানুষ সরকার বাসায় বসে অফিস করার সুযোগ বাতিল করেছে। সশরীরে উপস্থিত হয়েই এখন অফিস করতে হচ্ছে সবাইকে। অন্যান্য সংস্থাও চালু হয়েছে কিন্তু যাত্রীর তুলনায় পরিবহন সড়কে কম। কারণ রাস্তায় বাস কম রাখা হলে মানুষের চাপ বেশি থাকবে। তখন যাত্রীরা বাধ্য হয়েই বাসের সব আসন দখল করে বসবে। এমন সংকট সৃষ্টি করতেই পরিবহন মালিকরা যাত্রীদের তুলনায় রাস্তায় বাস নামাচ্ছে না। আর বেশি যাত্রী পরিবহন করলেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ।
লক্ষ্মীপুরের যাত্রীরা বলেন, ঈদে ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসার সময়ও দেখেছি সব আসন ভর্তি করে যাত্রী বহন করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৩ তারিখে জেনাকী পরিবহনে করে ঢাকায় যাচ্ছি। ভাড়াও রাখা হয়েছে ডাবল। যাত্রীও সব আসনে নেওয়া হয়েছে। এটা তো পরিবহন মালিকদের খামখেয়ালিপনা। সরকারের উচিত হবে এখনই পূর্বের বাস ভাড়া ঘোষণা করে দেওয়া। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর শ্রমিক ইনিয়নের সভাতি শাহাজন বলেন আমরা স্বাস্হ্য বিধি মেনে চলার চেষ্টা করি এবং সরকার যে ৬০ শতাংশ অতিরিক্ত নির্ধারন করা হয়েছে তার বাহিরে কোন ভাড়া নেওয়া হয়না । সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি বিজন বাবু বলেন, আসলে এটা সত্য ঈদের ছুটিতে মানুষ আসা যাওয়াতে অনেক পরিবহন ৫০ শতাংশ আসন ফাঁকা রাখছে না। তিনি আরও বলেন যেমন একই পরিবারের স্বামীস্বাস্ত্রী এক সঙ্গে পাশা পাশি বসতে চাই , আমার জানামতে তখন তাহাদের কাছ থেকে ভার্তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছেনা, আর মানুষও এখন করোনাকে ভয় পায় না। আমরা স্বাস্হ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করলেও কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানতে চায় না। আমরাও চাই আগের ভাড়ায় ফিরে যেতে। তাহলে আর বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আমাদের নিতে হবে না।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিট্রেট শাহিদুল ইসলাম বলেন যাত্রী পরিবহনে স্বাস্হ্য বিধি মেনেচলার ব্যাপারে প্রতিদিন আমাদের ভ্রাম্যমান আদালতের টিম মাঠে অভিযান পরিচালনা করছে এবং তা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এখন দেশের কোনও গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। যেসব শর্ত অনুসরণ করে বর্ধিত ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয়েছিল তার কোনোটাই মানা হচ্ছে না। সেই পুরনো কায়দায় গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। আবার এই করোনাকালীন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য সরকারের বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়ার চেয়েও অধিকাংশ রুটে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এতে করোনা সংকটে কর্মহীন ও আয় কমে যাওয়া দেশের সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাঈদুর রহমান বলেন, শুরু থেকেই অনেক গণপরিবহন স্বাস্থ্যবিধি মানেনি।
এরই ধারাবাহিকতায় পরিস্থিতি এখন দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেসব শর্ত অনুসরণ করে বর্ধিত ভাড়া আদায়ের কথা বলা হয়েছিল, তার কোনোটিই মানা হচ্ছে না। গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এমনকি সরকারের বর্ধিত ৬০ শতাংশের বেশি ভাড়াও আদায় করা হচ্ছে অনেক রুটে, বহু পরিবহনে। ফলে করোনা সংকটে কর্মহীন হয়ে পড়া ও আয়-রোজগার কমে যাওয়া সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। গণপরিবহনও ক্রমেই নৈরাজ্যকর সেই পুরনো চেহারাই ফিরছে। এ অবস্থায় দ্রুত আগের ভাড়ায় ফিরে যাওয়া উচিত বলে জনসাধারনের দাবী। নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর