লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে যৌতুক লোভি স্বামী স্ত্রীকে গাছের সাথে বেঁধে গৃহবধূকে বর্বর নির্যাতন

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুরজেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মধুপুর গ্রামে কাজল বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে গাছের সাথে বেধে মধ্যযুগীয় কায়দায় বেধড়ক পিটিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। জমি কিনতে টাকা পিতার বাড়ী থেকে এনে দিতে না পারায় স্বামী, শ্বশুর, শাশুরী ও ননদ মিলে রোববার ১৫ ডিসেম্বর রাতে এঘটনা ঘটিয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আজ মঙ্গগলবার এ ব্যাপারে গৃহবধূর ভাই বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। নির্যাতিতা গৃহবধূ জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে কাজল বেগমের সাথে রায়পুর উপজেলার সোনা মিয়া বেপারী বাড়ীর রফিক উল্যার ছেলে শরীফ হোসেনের সাথে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক বিয়ে হয়।

বিয়ের পর থেকেই স্বামী যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে প্রায়ই মারধর করত। সম্প্রতি একটি জায়গা কিনবে বলে স্ত্রীকে তার পিতার বাড়ী থেকে টাকা এনে দেয়ার জন্য অব্যাহত চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। রোববার রাত ১০টার দিকে টাকা এনে দিতে গালাগাল শুরু করলে নিরুপায় কাজল টাকা আনতে অপারগতা জানায়। এসময় ঘরের দরজায় তালা মেরে শ্বশুর রফিক উল্যা,

দেবর আরিফ, শ্বাশুড়ি মান সুরা বেগম ও ননদ শেফালী বেগম মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে টেনে হেঁচড়ে ঘরের বাইরে এনে একটি গাছের সাথে বেধে বেধড়ক পিটাতে থাকে। এলাকাবাসী রাত তিনটার দিকে গৃহবধূকে উদ্ধার করে তার পিতার বাড়ীতে খবর দেয়। পরে সোমবার সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে গৃহবধূর ভাই।

প্রতিবেশী জুয়েল জানায়, এ-র আগেও একাধিকবার কাজল বেগমকে তালাক দেয়ার হুমকী দিয়ে শারিরীক নির্যাতন করা হয়। এনিয়ে একাধিক শালিস দরবার হয়েছে। রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল জানান, নির্যাতিতা নারীর ভাই বাদী হয়ে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।