লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ফের মেঘনার জোয়ারে আবারো ২০টি গ্রাম প্লাবিত

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় পূনরায় মেঘনার জোয়ারে পানিতে ৩টি ইউনিয়নে হঠাৎ অস্বাভাবিক ভাবে জোয়ারে পানিতে মেঘনা নদীর তীরবর্তী প্রায় ২০টি গ্রাম পুনরায় প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মেঘনার তীরবর্তী এলাকার লোকালয়ে জোয়ারের পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। গ্রামে পানি ঢুকে পানিবন্দী হয়ে পড়ছে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ। এতে ভেসে গেছে মৎস চাষীদের শত শত পুকুরের মাছ। ডুবে গেছে কৃষকের মাঠের ফসল। জানা যায় শুক্রবার সকাল থেকে কিছু কিছু এলাকায় পানি কমতে শুরু।

রায়পুর উপজেলার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত উত্তর চরবংশী, দক্ষিণ চরবংশী ও চরআবাবিল ইউনিয়নের খাসেরহাট, চরলক্ষ্মী, চরবংশী, চরভৈরবী, হাজীমারা, চর কাচিয়া, জালিয়ার চর, কুচিয়ামোড়া, চর ঘাশিয়া, টুনুর চরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের অস্বাভাবিক জোয়ারের পানি ডুবে নদী থেকে ৪ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

মেঘনার অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে নদী সংযুক্ত খাল, পুকুর, বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট হাঁটু পরিমাণ পানিতে ডুবে আছে।

অনেক স্থানে এখনো কোমর পরিমাণ পানি আছে। এতে করে মেঘনা উপকূলীয় মানুষগুলো চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে। জোয়ারের কারণে বেশ কিছু কাঁচা, আধা পাকা ঘরবাড়ি ও সড়কসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর আগেও গত ৫ আগস্ট হঠাৎ অস্বাভাবিক জোয়ারে এই এলাকাগুলো পানি ঢুকে তিন দিন পানিবন্দী হয়ে পড়ে।

স্থানীয় এলাকাবাসি জানান, প্রায় একশ বছরের মধ্যে এত পানি বৃদ্ধি হতে তাহারা দেখেনি। নদীর সাধারণ জোয়ারের পানির স্তরের তুলনায় এদিন তিন ফুটের অধিক পানি বেড়েছে। প্লাবনে ভেসে গেছে গবাদিপশুর খাবার, মাছ, ক্ষেতের সবজিসহ অন্যান্য জিনিস। তলিয়ে গেছে মাছের ঘের, পুকুর, স্কুলসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাসহ বসতবাড়ি।

হাজীমারা গ্রামের ধনু মিয়া, সফর আলী বলেন, বিকাল ৩টার দিকে হঠাৎ করে জোয়ারের গতি বেড়ে যায়,এবং সন্ধ্যার দিকে পুরো এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। তাহারা আরো বলেন বিগত তিন পুরুষেও আমার উঠোনে এত পানি হয়নি। উঠোন ডুবে ঘর ছুঁই ছুঁই করছে জোয়ারের পানি।

এদিকে মেঘনার জোয়ারের পানিতে উপজেলার তিনটি গ্রাম প্লাবিত হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীন চৌধুরী বলেন, ফের এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। এর আগে গত ৫ আগস্ট জোয়ারে প্লাবিত এলাকার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।