লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চাঁদার দাবীতে প্রবাসীর বাড়ীতে দফায় দফায় হামলা ভাংচুর

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:  লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ০২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মাঝি বাড়ীর সাবেক ইউপি সদস্য মৃত আজিজুর রহমানের সম্পতির উপর কু- নজর পড়ে তারই সহোদর ভাই মৃত সিরাজুল হকের ছেলে শাহজাহান মাঝি (৪০) ও কবির মাঝি (৩৫) এর। আজিজুর রহমানের দুই ছেলে বর্তমানে প্রবাসে কর্মরত এই সুযোগে তারা প্রবাসী জসিম গংদের নিকট চাঁদা দাবী ও সম্পতি জবর দখল পুকুরের মাছ ক্ষেতের ফসল লুন্ঠন করে একাধিকবার নিয়ে যায় বলে ওই অসহায় পরিবার সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেন।

তাদের জোর জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করিলে বাড়ীতে থাকা মহিলাদের একাধিকবার তাদের মেরে জখম করে, পরে তাহারা হাসপাতালে চিকিৎসাধিন থাকা অবস্হায় ও তাদের হুমকি ধামকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে স্হানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করিলে তাহারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ীতে প্রচুর ভাঙচুর সহ ঘরে থাকা প্রবাসী জসিমের মাকে এবং বোন নাসিমার হাত ভেঙ্গে দেয়। এনিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। সরেজমিনে তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় শাহজাহান ও কবির মাঝিদের সহিত প্রবাসী জসিমদের জায়গা জমি নিয়া দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। প্রবাসীদের খাস দখলীয় মালীকিয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের জন্য বিভিন্নভাবে হয়রানি, অত্যাচার ও নির্যাতন তাঁরা করিয়া আসিতেছে।

বিগত কয়েকদি পূর্বেও অভিযুক্ত শাহজাহান ও কবির মাঝি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে ২ একর সম্পত্তির ফসল সয়াবিন জোরপূর্বক ভাবে জবর দখল করে তুলে নিয়া যায়। এতে ও তাঁরা ক্ষান্ত হননি, নীরিহ অভিবাবক হীন প্রবাসী এই পরিবারকে প্রতিনিয়তই হুমকি-ধামকি, সহ বাড়ীর মহিলাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করিয়া আসিতেছে। এবং বলে যে তোদের শান্তিতে থাকতে দিবোনা এরই মধ্যে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের বসত বাড়ী, পুকুর, বাগান সহ সকল সম্পতির ওপর আদালত কতৃক ১৪৪ ধারা জারি করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। এ প্রসংঙ্গে প্রবাসী জসিমের সাথে মুঠোফোনে বর্তমান সৃষ্ট ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন অভিযুক্ত শাহজাহান গংরা বর্তমানে আমাদের দখলীয় বসত বাড়ী, পুকুর ও বাগান সহ সকল অর্পিত সম্পত্তির উপর গত ১৭ ই আগস্ট ভুয়া ১৪৪ ধারা জারি করেন।

আমরা ও ইতোমধ্যে এই ১৪৪ ধারা বিরুদ্ধে মহামান্য আদালতে অভিযোগ দায়ের করি। এরই প্রেক্ষিতে উক্ত বিবাদীগন আমাদেরকে লাঠিসোঠা নিয়া পুনরায় আমার মা,বোন সহ বাড়ী থাকা সবাইকে মারধর করার জন্য তেড়ে আসে। তিনি আরো বলেন আমার জীবনের তাগিদে প্রবাসে পড়ে আছি তাই কোন হাঙ্গামা মারামারিতে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা ইতিপূর্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি গন্যমান্যদের উক্ত ব্যাপারে অবিহিত করিলে বিবাদীরা একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হইয়া যায় এবং আমাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক ভাবে আত্মসাৎ করিবে মর্মে ধমক প্রদান করে। আমাদের বাড়ী ঘরে হামলা চালিয়ে ক্ষতিস্বাধন করে এবং শারিরিকভাবে মারধর করিয়া আহত করে এবং আমাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। ইতোপূর্বে তাদের হাতে মারধরের শিকার জখমপ্রাপ্তদে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে জরুরীভাবে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়।

ইহার পরবর্তীতে পুনরায় বিবাদীরা বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ী মারধর করিয়া নিলুফাকে জখম করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্ত্রী সালমা বেগমের মাথায় আঘাত করিলে উক্ত আঘাত ডান হাতের মধ্যে পড়িলে হাত ভেঙ্গে জখম হয়। তারা হত্যা করার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করিয়া হাড়ভাঙ্গা জখম করে। বর্তমানেও তাদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ, আমরা জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলো প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসি সবুজ মাঝি বলেন, শাহজাহান ও কবির গংরা অসামাজিক পরধনলোভি দুষ্ট প্রকৃতির লোক এরা শালিশ দরবার এমনকি আইন পর্যন্ত মানেনা। তাঁরা নিরিহ প্রবাসী জসিমদের বিরুদ্ধে অযথা হয়রানী করে আসছে। এ প্রসঙ্গে ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন মাষ্টার বলেন নির্যাতিতরা একাধিকবার বিচার নিয়ে আমার কাছে আসছে, কিন্তুু অপর পক্ষ তাতে সমজোতায় না আসতে নারাজ তাই আমার পক্ষে বিষয়টি মিমাংশা করা সম্বভবনা। তিনি আরো বলেন তাদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান আছে। অভিযুক্ত শাহজাহান মাঝির বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে ও তাকে পাওয়া যায়নি।