দেওয়ানগঞ্জে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনে পরিবেশ এখন হুমকীর মুখে

ফারুক মিয়া, দেওয়ানগঞ্জ প্রতিনিধিঃ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে যত্রতত্র অবৈধ ভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করেই আসছে।

অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে অনেক খবর দেখা যায়। অবৈধ বালু উত্তোলন ক্ষতিকর-এ ব্যাপারে মোটামুটি সবাই একমত।

কিন্তু তা কতটা ক্ষতিকর বা এর প্রভাব আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে কতটা ক্ষতি হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে আতংক বিরাজ করছে।

বাংলাদেশে অবৈধ বালু উত্তোলনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন রয়েছে বলে বহু অভিযোগ পাওয়া যায়।

অনেক জায়গায় এর সত্যতাও রয়েছে। অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু আবার জলাশয় অপদখলের অন্যতম পদ্ধতি।

এসব বালু দিয়েই দখলের আগে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জলাশয় ভরাট করে থাকেন। সরজমিনে দেখা যায়,

উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বালু উত্তোলন হচ্ছে এরই ধারাবাহিকতায়,হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের সবুজপুর জিনজিরাম নদীসহ

চরআমখাওয়া ইউনিয়নের কামারেরচর ব্রহ্মপুত্র নদীর মাঝখান থেকে দীর্ঘদিন থেকে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে লক্ষ লক্ষ

সেপটি বালু উত্তোলন করে নির্মানাধীন রাস্তায় ব্যবহার করছে কেউ আবার নিজস্ব জলাশয় ভরাট করছে।

আশে পাশের বাড়ী ঘর ভেঙ্গে ভূমির খাত ও নদীগর্ভে চলে গেলেও তার কোন কৈফিয়ত নেই। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন,

প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করেই চলছে। অভিযোগ করলেও কোন কর্ণপাত করে না প্রশাসন।

বালু উত্তোলনে পানিদূষণসহ নদীগর্ভের গঠনপ্রক্রিয়া বদলে যাচ্ছে এবং নদী ভাঙছে। পুরো হাইড্রোলজিক্যাল কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বালু উত্তোলনের কাছাকাছি মাটির ক্ষয় যেমন ঘটছে, তেমনি মাটির গুণাগুণও নষ্ট হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়।

এ ছাড়া নলকূপে পানি পাওয়াও কষ্টকর হয়। উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই বালু উত্তোলন হয়। বিভিন্ন উৎস থেকে বালু উত্তোলনের ইতিবাচক দিকও রয়েছে।

দারিদ্র্যবিমোচন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভিদ ও প্রাণীর নতুন আবাস ও নতুন জলাধার সৃষ্টিতে এর অবদান রয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ২০১০ সালের বালুমহাল আইনে বলা আছে, বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান,

চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ছাড়া সেতু, কালভার্ট, ড্যাম,

ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন নিষিদ্ধ।