রৌমারীতে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে হাট-ইজারাদারের

রফিকুল ইসলাম, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রাম জেলা রৌমারী উপজেলায় গত কয়েক সপ্তাহের টানা বৃষ্টি বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও ছোট বড় শতশত খানা খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর এই বৃষ্টির পানি জমে রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন হাজ-বাজারে হাটু পানি ও কাদার জমেছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালের দিকে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব চিত্র ও তথ্য পাওয়া যায়।
দেখা গেছে গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি বষর্ণের ফলে উপজেলার, ইসলামী ব্যাংকের সামনে কাদা জমেছে, মোস্ততফা মার্কেট, কলেজ পাড়া, খনজনমারা স্স্নুইজগেট সংলগ্ন, শহীদ মিনার সংলগ্ন, থানা মোড় সড়ক এর পশ্চিম পাশেসহ উপজেলার আরও বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র রয়েছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। এদিকে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীতেও বেড়েছে জোয়ারের পানি। আশঙ্কা করা হচ্ছে ৫ম দফায় বন্যা হওয়ার। বৃষ্টির পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের জমির ফসল ও রাস্তা ঘাট। অন্য দিকে টানা বৃষ্টিতে দিন মজুরেরা বিপাকে পরেছে কাজ নেই। সেই সাথে দিন এনে খেটে খাওয়া মানুষ গুলোও পরেছে বিপাকে। দোকানদাররা ক্রেতা বিহীন বসে আছে।
রৌমারী সদর গরুর হাটে হাটু পানি ও কাঁদা জমেছে। এতে ইজারাদারের প্রতি সপ্তাহে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। এত বিপুল পরিমান ক্ষতি চোখে অন্ধকার দেখছে শেয়ার হোল্ডাররা। উপজেলা চত্বর এলাকার কাপড়ের দোকানদার আবু সাইদ কাকন জানান, এ এলাকার পানি নিষ্কাষণের ব্যবস্থা নেই, অল্প বৃষ্টিতে মানুষের চলাচল অযোগ্য হয়ে পরে। পানি নিষ্কাষণ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ায় পুরো এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। কাস্টমার নেই বিপাকে আছি। রৌমারী সরকারি ডিগ্রী কলেজ শিক্ষার্থী লিয়ন ও লাবিব হাসান বলেন, এলাকায় শিক্ষার্থীরা বের হতে পারছে না। সড়কের আশেপাশে হাটু পানি। ফলে রিকশায় পার হতে হয়। হেটে গেলে জুতা হাতে নিয়ে যেতে হয়। কেন এত কম বৃষ্টিতে কোথাও কোমর, কোথাও হাঁটুপানি-বুঝে উঠতে পারছি না।
উপজেলার কলেজ পাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ খাঁন বলেন, এ এলাকার পানি নিষ্কাষণের কোনো ব্যবস্থা নেই, একটু বৃষ্টি হলে রাস্তায় হাটু পানি হয়। এ ব্যাপারে রৌমারী সিজি জামান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারনে এবং অল্প বৃষ্টিপাতে তলিয়ে যাচ্ছে রৌমারীর হাট বাজারের বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট এবং তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তীর্ণ এলাকা।
রৌমারী হাট ইজারাদার রাজু আহমেদ খোকা বলেন, হাট পাওয়ার পর থেকে করোনা এসেছে, আবার বন্যা হয়ে গেল। এদিকে কয়েক সপ্তাহ থেকে টানা বৃষ্টি হওয়ার ফলে সপ্তাহে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান জানান, বন্যা ও অতি বৃষ্টির কারনে উপজেলার বিভিন্ন কাঁচা পাকা রাস্তা গুলোর বিভিন্ন জায়গায় ভেঙ্গে গেছে। অতি তাড়াতাড়ি রাস্তা সংস্কার করা হবে। হাট ইজারাদারের আবেদন পেয়েছি, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পাঠিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে এখন সিদ্ধান্ত হয়নি।