রৌমারীতে দালালদের ইশারায় চলছে বিদ্যুৎ অফিস

 রফিকুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রৌমারী উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগে মিটার প্রতি ৭ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে নতুন এলাকায় বিদ্যুতের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে জানা যায়। সেই ঘুষের টাকা স্থানীয় কিছু দালাদের মাধ্যমে গ্রহণ করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির লোকজন। উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের টাপুরচরচর এলাকায় গোলাম মোস্তফা মুকুল ও ফরিদ উদ্দিনসহ ১০/১২জনের একটি দালাল চক্র রয়েছে যারা গ্রাহক পল্লী বিদ্যুতের মাঠ পরিদর্শক থেকে ডিজিএম পর্যন্ত সরাসরি যোগাযোগ করে। দালালের অনুমতি ছাড়া নতুন কোনো সংযোগ বা মিটার পাওয়ার সুযোগ নেই।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়। পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড এর নিয়ম অনুসারে বিদ্যুতের আওতাভুক্ত এলাকায় গ্রাহক হওয়ার জন্য অনলাইনে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করতে হবে। এতে আবেদন ফি ১০০ ও মিটারের জামানত হিসেবে ৪৫০ টাকা পরিশোধের ১০ দিনের মধ্যেই নতুন সংযোগ দেয়ার নিয়ম। এর বাইরে অন্য কোনো প্রকার ফি নেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু পল্লী বিদ্যুতের ওই নিয়ম মেনে চললে ৫ বছরেও সংযোগ মেলে না। রৌমারীর টাপুরচর, পুরান টাপুরচর, সোনাভরি নদীর মুখতলা ও হামিদপুরসহ কয়েকটি গ্রাম নতুন সংযোগের আওতায় আনা হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার নতুন গ্রাহকের সৃষ্টি হয়েছে।

এজন্য নতুন সংযোগের পোল ও তার লাগানোর সময় এক দফা অর্থ আদায় করা হয়েছে। দ্বিতীয় দফায় মিটার প্রতি ২হাজার ৮’শ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। অসাধু ব্যক্তিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই অর্থ আদায় করেছে। পরে অবৈধ ভাবে আদায় করা ওই অর্থ পল্লী বিদ্যুৎ সংশিস্নষ্ট কিছু ব্যক্তি ভাগ বাটোয়ারা করে নেয় অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। টাপুরচর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ভুক্তভোগী খুরশিদ আলম অভিযোগ করে বলেন, আমি ২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে বিদ্যুৎ অফিসে আবেদন করি। বিদ্যুত লাইন স্থাপনের জন্য টেন্ডারও হয়। টেন্ডার হওয়ার পর স্থানীয় কয়েক জন দালাল বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে ৬/৭ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করে। এসব কর্মকান্ড বাধা দিতে গেলে আমাকে চাঁদাবাজ ও জীবনাশের হুমকি দেয়।

আমি বাদী হয়ে রৌমারী নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। দাঁতাভাঙ্গা ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ ডন বলেন, অভিযোগকারীর ঘটনা সত্য। অর্থ আদায়কে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে ঝগড়াঝাটিও হয়। আমি মিমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। ওই গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক এরশাদ আলী জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে প্রথমে ৪ হাজার টাকা ও পরে মিটার নিতে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে দালালদের। একই কথা বললেন আজিম উদ্দিনসহ অনেকেই। অভিযুক্ত গোলাম মোস্তফা মুকুল ও ফরিদ উদ্দিনের কাছে অর্থ আদায়ের বিষয় জানতে চাইলে তারা কথা না বলে পাশ কাটিয়ে যান। রৌমারীর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসে’র ডিজিএম ভজন কুমার বর্মন জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গিয়ে আমাদের অফিসের অর্থ দিতে হয় না। তবে মিটার নিতে শুধু মাত্র জামানত হিসেবে ৪৫০ টাকা দিতে হয়।