রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বারবার হামলা বড় কিছুর ইঙ্গিত নয়তো?

তিন সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছয়খুনের ঘটনা অন্য আর দশটি ঘটনার মতো দেখার উপায় নেই। মুহিবুল্লাহ খুনের পর এই হত্যাকাণ্ড বড়কিছুর ইঙ্গিত বহন করে। তাই, আবারও আলোচনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প।

স্থানীয়রা বলছেন, রোহিঙ্গানেতা মুহিবুল্লাহ হত্যার পর থেকেই বদলে গেছে ক্যাম্পের পরিস্থিতি। কেননা, আগে মাদক, চাঁদাবাজি বা আধিপত্য বিস্তারে খুনোখুনি হলেও এখন যোগ হয়েছে ভিন্ন সমীকরণ। বিশেষ করে, মুহিবুল্লাহ হত্যার পর তার সমর্থকদের সক্রিয় হয়ে ওঠা, বিপরীতে নেতা বা সদস্য আটকের পর উত্তেজনা ছড়াচ্ছিলো মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরসা। ফলে শেষপর্যন্ত সংঘটিত হয়ে গেছে এযাবতকালের সব হত্যাকাণ্ড।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, এইসব হত্যাকাণ্ডের ফলে ক্যাম্প গুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রভাব পরেছে। এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও শিক্ষক প্রফেসর ড. রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, এর ফলে প্রত্যাবাসন বিরোধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে কিনা সেই সম্ভাবনা ফেলে দেয়া যাবে না কারণ প্রত্যাবাসনের পক্ষে আর বিপক্ষে দুপক্ষই সমান সক্রিয়।

এই দুই বিশ্লেষক বলছেন, বর্তমানে যে ছক বা পরিকল্পনায় ৩৪টি ক্যাম্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে, তা ঢেলে সাজানো জরুরি। নজর দেয়া উচিত সমস্যার গভীরে। তাদের তাগিদ, এখনই সনাতনি পদ্ধতির নিরাপত্তা ছক বদলে ফেলতে হবে। সেইসাথে ক্যাম্পভিত্তিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা জরুরি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একের পর এক খুন বা সন্ত্রাসী ঘটনা কিংবা সক্রিয় দুর্বৃত্তদের এখনই শক্তহাতে লাগাম টেনে ধরা না গেলে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বড়ধরনের হুমকির মুখে পড়বে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।