রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও কর্মীদের ক্যাম্প এলাকায় রাখার দাবী জেলাবাসীর

 স.ম.ইকবাল বাহার চৌধুরী, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মায়নামার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা। তার আগেও পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা, বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া রোহিঙ্গা সহ বেসরকারী হিসাবে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার অবস্থান কক্সবাজার। যা কক্সাবাজার জেলার মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের ও বেশী।

এত অধিক শরণার্থী পৃথিবীর আর কোন দেশে নেই। তাই আন্তর্জাতিক ভাবে কক্সবাজার একটি বহুল পরিচিত নাম। আর জাতিসংঘের দৃষ্টিও এ জেলায়। বিশে^র সবচেয়ে বড় শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আশে দেশী বিদেশী প্রায় দুশত এনজিও। যার মধ্যে ইউএন প্রায় ২৫টি, আন্তর্জাতিক এনজিও প্রায় ৫০ টি আর ১৩০ টি দেশীয় এনজিও কাজ করছে। আর এতে কাজ করছে প্রায় দেড় লাখ দেশী বিদেশীকর্মকর্তা কর্মচারী। আবার কর্মকর্তকর্মচারীদের মধ্যে প্রায় ১০০০ বিদেশী নাগরিক কাজ করছে বিভিন্ন এনজিও তে। যার বেশীর ভাগই অবস্থান করছেন কক্সবাজার শহরে। শহর থেকে শত শত গাড়ী নিয়ে প্রায় শত কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন তারা কাজ করছে উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে।

করোনা ঝুঁকি নিয়ে সারা বিশ^ যখন তালমাতাল তার ঢেউ বাংলাদেশেও পড়ে ঠিক সে সময় মানবিক সহায়তা ও সচেতনতার কাজে সহযোগিতার জন্য প্রশাসন কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার অফিস সুত্রে জানা যায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুধু মাত্র প্রয়োজনিয় খাদ্য আর কোভিট-১৯ এর বিষয়ে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লোকবল সংখ্যা ২০ শতাংশে এবং গাড়ীর সংখ্যা ১০ শতাংশে কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা নারায়নগ্ঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকার কারো স্ত্রী বা কারো স্বামী কক্সবাজার অবস্থান করায় দেশের এ অবস্থায় স্বামী বা স্ত্রীর সাথে থাকার জন্য ঢাকা সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে কক্সবাজার আসছে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে।

সবার চোখ এড়িয়ে তারা স্ত্রী বা স্বামীর বাসায় উঠছে। তাই জেলাবাসী শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক নাজিম উদ্দিন বলেন,দেশের সবচেয়ে করোনা ঝুঁকিতে কক্সবাজার। প্রশাসনের সেদিকে খেয়ালই নাই। তা না হলে এনজিও কর্মকর্তাদের কক্সবাজার শহর থেকে যাতায়তের সুবিধা দিতনা। আমাদের কথা হচ্ছে যারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করে, তাদেরকে উখিয়া কোন এক জয়গায় সেফ হোম করে রাখা হোক। তা না হলে পুরু কক্সবাজার চরম ঝুঁকিতে পড়ে যাব। কামাল উদ্দিন রহমান পিয়ারু বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যে এনজিও গুলো কাজ করে। তাদের কর্মকর্তাদের এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হোক।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভিতরে বা আশেপাশে কোন এলাকায় শুধু তাদের জন্য নির্ধারন করে রাখা হোক। তা না হলে শহরের মানুষগুলো বিপদে পড়বে। মাননীয় জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ রইল। এ বিষয়ে জানতে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিখারুজ্জামান বলেন, উখিয়া উপজেলা প্রশাসন ক্যাম্পের বাইরের দিকটা দেখে। আমরা এনজিও কর্মীদের দ্বারা যাতে কোন ধরনের করোনা না ছড়ায় তার জন্য সম্ভব সবকিছু করেছি। আর সব এনজিও কর্মকর্তাদের এক জায়গায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ট আমার নয়। আরআরআরসি মহোদয়ের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ মাহবুবুল আলম তালুকদার দৈনিক কক্সবাজার ৭১ কে বলেন, আমরা চেষ্টা করছি জেলার মানুষের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা নিতে। মানবিক সহায়তা আর কোভিট-১৯ এর জন্য সচেতনতা সৃষ্টি ও চিকিৎসার জন্য যারা কাজ করছে তাদের শুধু সীমিত আকারে কর্মী রেখে কাজ করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাই গাড়ীর সংখ্যা ও কমে দিয়েছি ৯০ শতাংশ। তাছাড়া সকল কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সেফ জোন করে রাখা বিষয়ে তিনি বলেন। বিষয়টি আইএসসিজি মিটিং এ উপস্থাপন করে দেখতে পারি।