রোগীর অভাবে ইতি টানছে চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের উদ্যোক্তা ও স্বেচ্ছাসেবকরা

মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ রোগী না থাকায় চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের ছলিমপুরে অবস্থিত ‘চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল’ নামে কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড একটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেন এটির প্রতিষ্ঠাতা ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া।

‘ভালোবাসা এবং যত্ন ফিল্ড হাসপাতালের মূলমন্ত্র’ এমন স্লোগান নিয়ে ২১ এপ্রিল যাত্রা শুরু করেছিল চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতাল। মাত্র ২১ দিনে হাসপাতালটি প্রস্তুত করে বুঝিয়ে দিয়ে ছিলেন সকলের সম্মিলিত প্রায়স থাকলে জয় করা সম্ভব পাহাড় সম সমস্যা।

মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া। করোনাকালে যখন সকলে ঘরে বসে, তখনই তিনি বেরিয়েছেন করোনা আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিতে। তাঁরই নেতৃত্বে একদল যুবক রাজি হয়েছিলেন স্বেচ্ছায় শ্রম দিতে। পরিবার পরিজন রেখে দীর্ঘ চার মাসের বেশি সময় নিয়োজিত ছিলেন রোগীদের সেবায়।

শুধু তাই নয়, এই হাসপাতালের প্রতিটি চিকিৎসক-নার্স কাজ করেছেন স্বেচ্ছায়। হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ডাক্তার-রোগীর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কারণে ইতোমধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে হাসপাতালটি।

তাইতো সাময়িক বিদায় হলেও সকলেই ছিল আবেগ আপ্লুত।
দীর্ঘ চার মাসে এই হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়েছেন প্রায় ১৬শ রোগী। এর মধ্যে ভর্তি ছিলেন ২৮৩ জন। যার ৯০ শতাংশ রোগীই ছিল করোনা আক্রান্ত। এই সেবার মান ভালো হওয়ায় চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন বাংলাদেশে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও।

ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়ার উদ্যোগে ও নাভানা গ্রুপ এর সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই হাসপাতালটি পরিচালিত হতো সম্পূর্ণ জনগণের আর্থিক সহায়তায়।

হাসপাতালটি সিইও ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া বলেন, গত দশদিন ধরে কোন রোগী নেই হাসপাতালে। তাছাড়া সব কিছু আবার আগের মত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। স্বেচ্ছসেবক যারা সেবা দিতেন তারা সকলেই শিক্ষার্থী। সব কিছু বিবেচনা করে হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িক ভাবে বন্ধ রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল পরিচালনায় আর্থিক সমস্যা রয়েছে। চিকিৎসক-নার্স-স্বেচ্ছাসেবকদের টাকা দিতে হচ্ছে না ঠিকই, হাসপাতাল পরিচালনা করতে যে আনুষাঙ্গিক ব্যয় রয়েছে তা বহন করাও দুষ্কর হয়ে পড়ছে। তবে রোগী থাকলে হয়তো অর্থ যোগাড় করে চালু রাখা যেত। কিন্তু বেশ কয়েকদিন রোগী শূন্য থাকায় সাময়িক ইতি টানছি আমরা। আবার এমন কোন সমস্যা তৈরি হলে আমরা হাসপাতাল চালু করবো।