রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ হাসপাতালে, সুস্থ হলেই দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রুমন : শারীরিক অসুস্থতার কারণে দ্বিতীয় দিনের মতো রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিজ্ঞাসাবাদের কথা থাকলেও তা করা হয় নি।

হঠাৎ করেই গতকাল রাতে বুকে ব্যথা এবং অসুস্থতার কথা বলেন সাহেদ। ফলে চিকিৎসার জন্য দুদক কর্মকর্তারা সাহেদকে রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুদক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতেই সাহেদকে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। তিনি এখন ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে আছেন। ডাক্তাররা গ্রিন সিগন্যাল দিলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে সাহেদকে।

এর আগে, গত ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ১৬ জুলাই আদালতে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাহেদ বলেছিলেন তিনি করোনায় আক্রান্ত। এরপর তার পরীক্ষা করে দেখা যায় সাহেদ করোনায় আক্রান্ত নন।

গতকাল পদ্মা ব্যাংক (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) থেকে ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা গুলশান করপোরেট শাখা থেকে আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এদিকে গত ১০ আগস্ট দুদকের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সাহেদের। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ গত ৬ আগস্ট আসামি সাহেদকে ১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিলেন।

২০১৫ সালে ফারমার্স ব্যাংকের ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ২৭ জুলাই রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ, ফারমার্স ব্যাংকের নিরীক্ষা কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

গত ২২ জুলাই এনআরবি ব্যাংকের এক কোটি ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদ সাহেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করে দুদক।

উল্লেখ্য, গত ৬ জুলাই র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এসময় পরীক্ষা ছাড়াই করোনার সনদ দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর ৭ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতাল ও তার মূল কার্যালয় সিলগালা করে দেয় র‌্যাব। রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে ওই দিনই উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়। এরপর থেকে সাহেদ পলাতক ছিল।
গত ১৫ জুলাই ভোরে ভারতে পালানোর সময় সাতক্ষীরা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।