রায়পুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাবরীন চৌধূরীর “স্নেহের আঁচল”

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া , জেলা প্রতিনিধি লক্ষ্মীপুর: গর্ভবতী মা এবং সন্তান প্রসব পরবর্তী সময়ে মা ও নবজাতকের যত্নে, তাদের মুখে হাসি ফোটানোর প্রত্যয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়েছেন “মাতৃছায়া” হয়ে স্নেহের আচলে জড়িয়ে নিতে এগিয়ে এসেছেন, রায়পুর উপজেলার চৌকস নির্বাহী অফিসার শাবরীন চৌধূরী। বর্তমান পরিস্হীতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন :–ভূমিষ্ঠ হয়েই, একি দেখি !করোনায় ব্যস্ত বিশ্ব,আমার কান্না কেউ শোনেনা ‘আমি’ আর মা’ নিঃস্ব।।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সরকারী আদেশ মেনেই লকডাউন করা হয়েছে রায়পুরকে। অধিক নিরাপত্তার স্বার্থে বন্ধ করতে হয়েছে দোকানপাট, সীমিত করতে হয়েছে জনসমাগম। হাসপাতাল কিংবা বাড়ি, জন্ম কিংবা মৃত্যু…সব জায়গায় সচেতনতায় থমকে গেছে কান্না এবং হাসি।

করোনা পরিস্থিতিতে জন্ম নেয়া সকল সদ্যজাত শিশুর অবুঝ দৃষ্টির নেপথ্যে হয়তো’বা নির্লিপ্ত আছে এমন অব্যক্ত হাজারো প্রশ্ন ? যার ভাষা জানা নেই আমাদের কারোরই। লকডাউন পরিস্থিতিতে এমন অনেক মা’ আছে যারা পায়নি দু’মুঠো দু’বেলা ভাত বা পুষ্টিকর কোন খাবার…তবুও উদ্ভাসিতমুখে কিছুটা শংকায় কিছুটা আতংকে লড়াই করেছে গর্ভে লালিত সন্তানকে এ পৃথিবীর আলো দেখাতে।

করোনা পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে, স্বজনপ্রীতিতে, সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে, কম-বেশি সকল দুয়ারে পৌঁছানো হয়েছে খাদ্য সহায়তা কিন্তু নজরে আসেনি নবজাতক শিশু এবং পুষ্টিহীনতায় জর্জরিত অনেক মায়ের কান্না। আর তাই এই পরিস্থিতিতে, নবজাতক শিশু যে কিছুটা হলেও বঞ্চিত হয়েছে আত্মীয় স্বজনের স্নেহ থেকে কিংবা আয়রোজগার বন্ধ থাকায় যে মা ও শিশু বঞ্চিত হয়েছে পুষ্টিচাহিদা হতে…সেই গর্ভবতী মা এবং সন্তান প্রসব পরবর্তী মায়েদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির কথা বিবেচনা করে এবং নবজাতক শিশুদের কিছুটা স্নেহের ছোঁয়া দিতে ইতোমধ্যে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সদ্য জন্ম নেয়া ৪টি নবজাতক শিশু ও তাদের মায়েদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয় “স্নেহের আঁচল”।

করোনা পরিস্থিতিতে মা এবং মায়ের কোল সুস্থ ও নিরাপদ রাখার উদ্দেশ্যে পাঠানো এই উপহার সামগ্রীর মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য ও ফলমূল ছাড়াও সাবান, মাক্স এবং নবজাতক শিশুর জন্য নতুন কাপড় রয়েছে। [উল্লেখ্য, নবজাতক শিশুকে নতুন জামা উপহার দিতে কাজে লাগিয়েছি মহিলা বিষয়ক দপ্তরের অসহায় প্রশিক্ষণার্থীদের… এ সময় তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয়ার প্রত্যাশায়।
মা ও শিশুর যত্নে ‘স্নেহের আঁচল পৌঁছে দিতে সহযোগিতায় ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), আখতার জাহান সাথী, রায়পুর এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নব যোগদানকৃত ডাক্তারবৃন্দ।

এভাবে সবাই সচেতনতার পাশাপাশি স্নেহের পরশে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসুন, এখন’তো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে আমাদের।সবাইকে মনে রাখতে হবে, জনসেবায় সর্বক্ষণ জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসন।