রায়পুরে বিয়ের দিনে যুবকের রহস্য জনক মৃত্যু পুকুর থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:  লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে গত ২৫ দিন পূর্বে একেবারেই সৌদি আরব থেকে বাড়িতে চলে আসেন রায়পুর উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের উত্তর কেরোয়া গ্রামের মো. আব্দুল কাদের (৩২)। শুক্রবার পারিবারিকভাবে তার বিয়ের জন্য সকল আয়োজনও সম্পূর্ণ হয়। বাড়িতে আনন্দ উৎসব চলছে এবং মেহমানও আসতে শুরু করেছেন। কিন্তুু বিয়ের দিন পুকর থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। এতে স্বজনদের মাঝে বিষাধের ছায়া নেমে আসে। অনুসন্ধানে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে মসজিদে ফজরের নামাজ পড়ে ঘরে আসেন আব্দুল কাদের। পরে রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
এর তিন ঘণ্টা পর পরিত্যক্ত পুকুরে কাদেরের লাশ ভাসতে দেখে কয়েকজন প্রত্যক্ষ দর্শী এতে তোলপাড় শুরু হয় বিয়ে বাড়ীর লোকজনের মাঝে। জানা যায় নিহত আবদুল কাদের একই এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে। দুপুরে নিহতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জয়নাল আবেদিন বাদী হয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন। নিহতের মা আছিয়া বেগম ও বাবা জয়নাল আবেদিন জানান, চরমোহনা ইউপির চালতাতলি এলাকার মোখলেস ও রোকেয়া বেগমের মেয়ে সুমি আক্তারের সাথে বিয়ের দিন ধার্য হয় শুক্রবারে। এতে মেহমানও বাড়িতে আসতে শুরু করেছেন।
বিয়ের জন্য সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ে ঘরে আসেন কাদের। এর দুই ঘণ্টা পর কাদের ঘর থেকে রাস্তায় বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তিন ঘণ্টা পরে পাশবর্তী জগাগো বাড়ির সুপারি বাগানের ভেতরে পরিত্যক্ত পুকুরে কাদেরের লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় গ্রাম পুলিশ। এর পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ অনাকাঙ্খিত মৃত্যুকে সন্ধেহের চোখে দেখছেন অনেকেই। এ মৃত্যু সম্পর্কে জানতে চাইলে রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, যুবকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। মৃত্যুটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।