রায়পুরে পারিবারিক কলহে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী’র হামলায় স্বামী হাসপাতালে

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পরিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর দায়ের কোপে স্বামী মারাত্বক যখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। অনুসন্ধানে জানা যায় স্বামী ঠিকমত ভরন পোষন না দেয়ায় এবং অসুস্থ্য সন্তানদের খোঁজ খবর না নেওয়ায় ক্ষুদ্ধ স্ত্রী’র হাতে হামলার শিকার হন কোরআনের হাফেজ মোঃ কামাল হোসেন।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সন্ধায় রায়পুর পৌর শহরের টিএন্ডটি অফিস সংলগ্ন মোহাম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসার সামনে। এসময় খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও জখমকৃত কামালকে হাসপাতালে দেখতে জান। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত স্ত্রী ও কোন ব্যাক্তিকে আটক ও মামলা করা হয়নি।

জানা যায় আহত হাফেজ কামাল হোসেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ও কেরোয়া ইউপি’র লুধুয়া গ্রামের পাঁচকড়ি মিজি বাড়ীর মৃত হাফেজ শহীদ উল্লার ছেলে।

ঘটনা সম্পপর্কে জানতে চাইলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত কামাল জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে বামনী ইউপির সাইচা গ্রামের লেদু মিয়ার মেয়ে আরজু বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তারা বর্তমানে সোনাপুর ইউপি’র বাসাবাড়ী বাজারের পাশে দাই বাড়ীতে একটি পাকা ভবন কিনে বসবাস করছিলেন।

কামাল আরো জানানা তার অনুপুস্থিতে বিভিন্ন পুরুষের সাথে আরজুর পরকিয়ায় লিপ্ত রয়েছে। এসব খারাপ কাজ না করার জন্য আরজুকে একাধিকবার নিষেধ করলে সে মানষিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। অবশেষে প্রায় দুই বছর আগে আদালতের মাধ্যমে তালাক প্রদান করা হয়েছে।

তারপরও সে বিভিন্ন লোকদের দিয়ে ক্ষতি করার চেষ্টা করে আসছিলো। এ আতঙ্কে বাড়ী ছেড়ে কয়েকমাস এই মাদ্রাসায় রাত যাপন করছি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে মাদ্রাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় আরজু তিনজন লোক নিয়ে আকষ্মিকভাবে পেছন থেকে ঝাপটে ধরে ইট ও দা দিয়ে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আরজু বেগম বলেন, বিয়ের কয়েক বছর পর থেকে তার স্বামী-কামাল হোসেন বিভিন্নভাবে তাকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছে। এ নিয়ে দফায় দফায় শালিসও হয়েছে থানা ও ইউনিয়ন পরিষদে। তার সন্দেহের রেশ ধরেই তার বাবা স্ট্রোক করে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নেন।

আরজু বেগম আরো বলেন তার সন্দেহের মাত্রা এতোটাই প্রকট যে, সে তার বাচ্চা মেয়েকে পর্যন্ত দৈনিক জিজ্ঞাসা করে যে, তোমার সাথে কারো খারাপ কিছু হয়েছে কিনা? তাকে ভালোবেসে এবং পরকালের কথা ভেবে সংসারে সুখের আশায় বাবার বাড়ী থেকে নগদ তিন লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে একটি বাড়ী কিনেছি। তাও আমার নামে না নিয়ে নিজের নামে রেজিষ্ট্রি-করে নেয়। আমার অধিকার ও পাওনা না দিয়ে এবং সামাজিকভাবে সালিশ না করে গোপনে আদালতের মাধ্যমে আমাকে তালাক দেয়।

এব্যপারে ইউপি চেয়ারম্যান সহ কারো কাছেই বিচার তো পাইনি বরং অনেকেই কু-প্রস্তাব দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছে। আমার ছোট ছেলে ৬ বছর বয়সী খুবই অসুস্থ! টাকার অভাবে তার চিকিৎসা করানোও সম্ভব হচ্ছেনা।
এই করোনার সময়ে গত পাঁচ মাস অসুস্থ সন্তানদের নিয়ে-না খেয়ে অসহায় জীবন যাপন করছি। অসুস্থ্য হয়েও স্বামী কামালের কাছে ক্ষমা চাইতে গিয়ে তার দ্বারা হামলার শিকার হতে গিয়ে পাল্টা জবাব দিয়েছি।

এব্যপারে রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, স্ত্রীর দ্বারা হাফেজ স্বামীর হামলার খবর পেয়েই হাসপাতালে গিয়ে খবর নেয়া হয়েছে। মামলা হলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।