রায়পুরে পাউবোর জায়গা দখল করে স্থানীয় নেতার বালু বিক্রির মহোৎসব

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনার সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে গত দুই তিন মাস ধরে পাউবোর জায়গা দখল করে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অনবরত বালু উত্তোলন করে অবাধে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ক্ষমতাশীন নেতা ও পাউবোর মেকানিকাল কর্মচারির বিরুদ্ধে। এই অবৈধ বালু উত্তলনের কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি নদী ভাঙনের ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়েছে মেঘনা পাড়ের বসবাসকারী মানুষগুলো, এবং ঘরবাড়ি সহ ওই এলাকার আশপাশের ফসলি জমি।

এলাকার স্থানীয়দের অভিযোগ, এর সাথে ফাঁড়ি পুলিশ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কয়েকজন কর্মকর্তাও কর্মচারি জড়িত রয়েছেন। এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পাউবো’র দক্ষিন চরবংশী ইউপির হাজিমারা সুইজগেইট সম্মুখ স্থানে ও আবাসিক এলাকার ভিতরে ফাঁড়ি থানার সামনে বিধিমালা কোনোটিই সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না । মেঘনা নদীর যে স্থানে বালু পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব বালু সরকারি পাউবোর জায়গায় দখল করে সেখানেই মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই এলাকার স্থানীয়দের কাছে বিক্রি করা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেঘনার দক্ষিন পাশে পাউবো’র আবাসিক কলোনির ভিতরে ফাঁড়ি থানার সামনে ২০ লক্ষ টাকা মুল্যের বড় বড় সৃষ্টি ও কড়ই গাছের ভিতরে বালু স্তুপ করা হচ্ছে। এবং টাকা নিয়ে তা প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি, মেঘনা নদীর তীরে বসবাসকারী দরিদ্র লোকদের কাছ থেকেও সরকারি জায়গা ভরাট করে দিয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়। উপজেলার চরকাছিয়া গ্রামের-কামাল হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, মেঘনা নদীর সুইসগেইট সংলগ্নে স্থানীয় আ’লী নেতা ফারুক সৈয়াল ও পাউবোর মেকানিকাল ম্যান মুজাম্মেল পৃথক ৪টি স্থানে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। এসব বালু সুইজগেইটের মুখে ও পাউবোর আবাসিক এলাকার ভিতরে থানার সামে স্তুপ করে প্রভাবশালীদের বাড়ির ভিটা, পুকুর, খাল-নালা, রাস্তা, মার্কেট, দোকানপাট ভরাটে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া বালু সাথে ইট ব্যাবসাও করছেন।

হাজিমারা সুইসগেইট বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি না নিয়ে নীতিমালা উপেক্ষা করে পাউবোর কর্মচারি ও এক আ’লীগ নেতা প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে।’পাশাপাশি ইটও বিক্রি করা হচ্ছে। পাউবোর আবাসিক এলাকার এক বৃদ্ধ’র অভিযোগ, মেঘনা নদীর সুইসগেইট সংলগ্নে স্যালো মেশিন দিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু উত্তোলন করে তা স্তুপ করা হচ্ছে। এতে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, ঘরবাড়ি ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে।’তার পাশাপাশি কয়েক লাখ টাকা গাছ মরে গেছে। এলাকার কয়েক যুবক প্রতিবাদ করায় তাদের বিভিন্ন মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেয় আ’লীগ নেতা ও পাউবোর মেকানিক।

শুধু তারা না আরো ৭/৮ ব্যাক্তি সুইসগেইটের আশেপাশে ও মেঘনা থেকে বালু উত্তোলন করছে। পাউবো’র জায়গায় বসবাসকারী সবুরা বেগম (৪৫) বলেন, ‘আমরা গরীব মানুষ; সরকারি জায়গায় থাকি। বাড়ির সামনের গর্তটা ভরাট করে দিতে ঠিকাদারের লোকদেরকে বলেছি। কিন্তু সরকারি জায়গা ভরাট করে দিতেও তাদের ফুট প্রতি ৫ টাকা করে দিতে বলেছে। পাশাপাশি মেশিন চালকদের খাবার দিতে হবে বলেও দাবি করেছে।’ বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের পরিবেশকর্মী আবিদ রহমান বলেন, ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালায় শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে ভূমিকম্পের প্রবণতা সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে।’ রায়পুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) আক্তার জাহান সাথী বলেন, ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী বালু বিক্রির অধিকার আ’লীগ নেতা বলেন আর পাউবোর কর্মচারিই বলেন কোন ব্যাক্তির নেই।

রায়পুর পাউবো’র এসও আলমগীর হোসেন চাঁদপুর অফিস থেকে বলেন, ‘শ্যালো মেশিন দিয়ে নদী বা খাল খনন করা যাবে না। সরকারি জায়গা দখল করে স্থানীয় আ’লীগ নেতা কয়েকদিনের জন্য বালু রেখেছেন। তা নিয়ে যাবেন বলে জানান। তাকে এ নিয়ে সাবধান করে দিয়েছি। নির্দেশনা না মানলে মেশিনসহ তাদের আটক করে জেলে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।’ পাউবোর ইন্জিন মেকানিক মুজামেল অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে বালু ও ইটের ব্যবসা করছে জানতে পেরেছি।