রায়পুরে কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতালের অনিয়ম ৭টি বন্ধের নির্দেশ থাকলেও মানছেননা মালিক পক্ষ

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি:  লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নানা রকম অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মধ্যে দিয়ে চলছে স্বাস্হসেবা। সরেজমিনে তদন্তে দেখাগেছে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি এমন অভিযোগের ভিত্তিতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ১০ টি প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেন লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন। মঙ্গলবার দিনবর (২৫ আগষ্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ক্রমে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় রায়পুরের অধিকাংশ হাসপাতালের নবায়ন না থাকা ও অভিজ্ঞ ডিপ্লোমা নার্স না থাকাসহ একাধিক অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় যায়। জেলা সিভিল সার্জন রায়পুরে ৭টি প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধের জন্য মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন।
বন্ধের নির্দেশ দেয়া রায়পুরের প্রাইভেট হাসপাতালগুলো হলো-মর্ডান, মেঘনা, মেহেরুন্নেসা, জনসেবা,ম্যাক্সকেয়ার, মা ও শিশু এবং নিরাময় হাসপাতাল। আজ সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালেরর মালিক পক্ষ সিভিল সার্জনের নিদ্দেশনা মানছেননা। তাহারা হাসপাতাল খোলা রেখেছেন। এ অভিযানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুল গফ্ফার ও রায়পুর সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বাহারুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আব্দুর গফ্ফার বলেন, কোনো সেবা মুলক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা বা সিলগালা করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাচ্ছি, আমাদের সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সুষ্ঠু নিয়মে চলুক। এবং আইনের মধ্যে থেকে স্বাস্হ্য সেবা নিশ্চিত করুক। সিভিল সার্জন আরও বলেন, গত ২৩ আগষ্ট নবায়ন করার শেষ সময় পার হলেও তা না করাসহ রায়পুরে প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে অনেক সমস্যা পাওয়া গিয়েছে। সেজন্য হাসপাতাল কর্ততৃপক্ষকে কাগজপত্রসহ অন্যান্ন সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
 অভিযানে সিভিল সার্জনসহ তার টিম অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি, প্যাথলজিক্যাল ল্যাব পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় , কাগজপত্র যাচাই বাছাই করেন। রায়পুর সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার বাহারুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি হাসপাতালগুলোর লাইসেন্সের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের উল্লেখ করে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
লক্ষ্মীপুর প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক এসোসিশনের সাধারন সম্পাদক আবদুর রহমান তুহিন বলেন, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা গত ২০১৮-২০১৯ বর্ষ থেকে নানা বিড়ম্বনার মধ্যে সময় অতিক্রম করছে। ২০১৮-২০১৯ বর্ষ থেকে প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স ফি বহুগুণে বৃদ্ধি করার সাথে সাথে লাইসেন্স নবায়ন ও আবেদন সম্পূর্ন অনলাইন বিত্তিক সপ্টওয়ারের মাধ্যমে করা হয়। একই সাথে একটি লাইসেন্স এর জন্য অনেকগুলো সাপোর্টিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়।
যেমন ট্রেড লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স,ভ্যাট লাইসেন্স, ইনকামটেক্স লাইসেন্স ও পরিবেস লাইসেন্স সহ ইত্যাদি সকল পক্রিয়া সম্পন্ন করেও সরকারের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে লাইসেন্স এর আবেদন করেও দেখাগেছে অনেক হাসপাতাল ল্যাব মালিক মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রায়পুরে নবায়ন না করায় ২টি ছাড়া ৭ টি হাসপাতালকে মৌখিকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।