রাসিকের ৯৯৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা

সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী প্রতিনিধি: আয় ও ব্যয় সমপরিমাণ ধরে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের ৯৯৬ কোটি ৭৯ লক্ষ ৩ হাজার ৩২৯ টাকা ৯২ পয়সার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ১৫জুন শনিবার নগর ভবনের সিটি হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এই বাজেট ঘোষণা করেন রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় মেয়র নিয়মিত কর পরিশোধ ও বাজেট বাস্তবায়নসহ সকল কর্মকাণ্ডে মহানগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হই। রাজশাহীকে আধুনিক, উন্নত, বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও মডেল মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করে নতুন নতুন প্রকল্প প্রণয়ন অব্যাহত রেখেছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ২৯৩১ কোটি ৬১ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক সর্ববৃহৎ প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন লাভ করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখে এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদন দেন।

মেগা প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাজেট বরাদ্দসহ অব্যাহতভাবে সহযোগিতা প্রদান করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশন পরিচালনায় ৯টি অগ্রাধিকার কর্মকৌশল ঠিক করেছি। সেগুলো হচ্ছে, পরিকল্পিত নগর অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে রুট পর্যায়ে নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন। উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ/উন্নয়ন এর মাধ্যমে নগরীর পরিবেশ উন্নয়ন। অপ্রচলিত আয়ের খাত সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্কের কার্যক্রম চালু করে বেকার সমস্যা দূরীকরণ।

নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ। রাজস্ব ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের মাধ্যমে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি। কর্ম সম্পাদনে গতিশীলতা আনয়ন ও সেবার মান বৃদ্ধি। দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। আর্থিক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন। বাজেট বক্তব্যে মেয়র ২৯৩১ কোটি ৬১ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত নগর অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক অনুমোদিত এই নতুন প্রকল্পের আওতায় ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। মেয়র বলেন, প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল মার্চ, ২০২০ হতে শুরু হলেও আর্থিক বরাদ্দ প্রাপ্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভৌত নির্মাণ কাজ জুলাই, ২০২০ হতে শুরু হবে।

২০২০-২১ অর্থবছরে এই প্রকল্পের আওতায় ৫০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই অর্থ বছরে প্রথম পর্যায়ে ৩০টি ওয়ার্ডের প্রত্যেক ওয়ার্ডে ৫ কোটি টাকার রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ভদ্রা মোড় রেল ক্রসিং হতে পারিজাত লেক হয়ে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পর্যন্ত রাস্তা কার্পেটিং, ফুটপাথ, সাইকেল লেন ও ড্রেন নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে শালবাগান কাঁচা বাজার তিনতলা বিশিষ্ট বাজার নির্মাণ করা হবে।

এ প্রকল্পের আওতায় নগরীর অতিগুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৫টি ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানগুলো হলো: কোর্ট স্টেশন মোড়, লক্ষীপুর মোড়, শহীদ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান চত্বর, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট ও রাজশাহী রেল স্টেশন মোড়। এছাড়া নগরীর ৪৪টি গোরস্থানের সীমানা প্রাচীর উন্নয়ন, গোরস্থানের অভ্যন্তরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, আলোকায়ন ও মাটি ভরাটসহ নির্মিত সীমানা প্রাচীরে রিনোভেশন করা হবে। এই প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত অন্যান্য উন্নয়ন কাজ পরবর্তী বছরগুলোতে বাস্তবায়ন করা হবে। নির্ধারিত মেয়াদ জুন, ২০২৪ এর মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মহানগরীকে নতুন রূপে দেখা যাবে।

চলমান ও অনুমোদিত ও প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যাপারে মেয়র বলেন, ১৮৯ কোটি ৩৪ লক্ষ ৫৯ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী মহানগরীর রাজশাহী-নওগাঁ প্রধান সড়ক হতে মোহনপুর-রাজশাহী-নাটোর সড়ক পর্যন্ত পূর্ব-পশ্চিম সংযোগ সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প’, ১৯৩ কোটি ২৯ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী মহানগরীর জলাবদ্ধতা দূরীকরণার্থে নর্দমা নির্মাণ প্রকল্প (৩য় পর্যায়)’, ১২৬ কোটি ৩৯ লক্ষ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী মহানগরীর উপশহর মোড় হতে সোনাদিঘী মোড় এবং মালোপাড়া মোড় হতে সাগরপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)’, ১৬৪ কোটি ১৯ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী মোড় পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’, ১৭২ কোটি ৯৮ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্প’, ৪৯ কোটি ৮৬ লক্ষ ৮৭ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক ও নর্দমা সমূহের উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ২ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘পরিবেশ উন্নয়নের জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প’ এর কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে মহানগরীর অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। এছাড়া ৭৯৫ কোটি ৮০ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে নগরীর ২২টি জলাশয়ের উন্নয়নে ‘রাজশাহী মহানগরীর প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’, প্রায় ১৫০০.০০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী মহানগরীর সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’, ৮৯৫ কোটি ৩৯ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘ রাজশাহী মহানগরীর সড়ক বাতি ও ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির আধুনিকায়ন প্রকল্প’, প্রায় ১০০০.০০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘রাজশাহী মহানগরীর শ্রীরামপুর পদ্মা নদীর তীরে বঙ্গবন্ধু ইকো পার্ক নির্মাণ প্রকল্প ’ প্রায় ১০০০.০০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে ‘ রাজশাহী মহানগরীতে শেখ রাসেল সায়েন্স সিটি ও সাফারি পার্ক নির্মাণ প্রকল্প’ হাতে নেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আরো বলেন, পরিবেশ উন্নয়ন, হাসপাতাল এবং সকল ক্লিনিকের আউট হাউজ মেডিকেল বর্জ্য পরিবেশসম্মত ও সুষ্ঠুভাবে ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে অত্যাধনিক সেকেন্ডোরি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) স্থাপন করা হবে। জলাবদ্ধতা ও মশক নিধনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মহানগরীর আলোকায়ন ব্যবস্থার আরো আধুনিকায়ন, দরিদ্র ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদান কার্যক্রম, যানজট কমাতে অটোরিকশার স্মার্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু, সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ ও শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করতে পিপিপির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ ও সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম চলামান আছে। শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের মহানগরীতে বিনিয়োগে আগ্রহী করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের আয় বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র লিটন বলেন, অপ্রচলিত খাতে আয় বৃদ্ধি ও প্রচলিত আয়ের খাতসমূহ তথ্য প্রযুক্তির অধিক ব্যবহারের মাধ্যমে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নির্মাণাধীন মার্কেট সমূহ অতি দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া অপ্রচলিত আয়ের খাত যেমন, আবাসিক এলাকা সৃজন ও বহুতল ভবনের নির্মাণর অনুমতিপত্র প্রদান, সালভেজ ম্যাটারিয়াল, এ্যাসফল্টপ্ল্যান্ট এর মাধ্যমে আরো আয় বৃদ্ধির পদক্ষেপ নেয়া হবে। গতানুগতিক আয়ের খাত থেকে বেরিয়ে এসে গ্যাস ভিত্তিক সিএনজি স্টেশন, সিটি কর্পোরেশনের অধীন বেসরকারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সিটি হাসপাতালকে মহিলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে উন্নীতকরণ, বেসরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউট, কারিগরী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট স্থাপনসহ নানাবিধ পরিকল্পনা রয়েছে।

মেয়র আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশনের আয়তন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে চারটি জোনে বিভক্ত করে জোনাল কার্যক্রম চালু করা হবে। যা ইতোমধ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এবারের বাজেটে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক ও বিনোদনের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবন্ধীদের সহায়তায় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। বস্তি উন্নয়নের ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দৈনিক মজুরী ভিত্তিক শ্রমিকগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে মেয়র বলেন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার বিভিন্ন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজশাহী মহানগরীর করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা শুরু থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করি। বৈশি^ক মহামারী করোনা সংকটের এ মূহুর্তে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে এগিয়ে নিতে জাতীয় বাজেটের আলোকে রাজশাহী মহানগরীর উন্নয়ন ও নাগরিকসেবা বৃদ্ধিতে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্যে ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ১৯ মার্চ রাজশাহী থেকে সারাদেশের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, জনসচেতনতা সৃষ্টি, মাস্ক ও স্যানিটাইজার বিতরণ, ২৭টি পয়েন্টে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা, জীবানুনাশক স্প্রে, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহে নিয়োজিত আছে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা। জরুরি প্রয়োজনে নাগরিকদের বাড়িতে গিয়েও নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। করোনা পজিটিভ রোগীদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীকে বহনে এ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান, আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে তাকে দাফনে কবরস্থান নির্ধারণ ও সহায়ক টিম প্রস্তুত আছে।

মেয়র আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক-নির্দেশনা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে কর্মহীন, নিম্ন আয়ের গরীব, অসহায় ও দুস্থ্য মানুষকে দফায় দফায় ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ তহবিল গঠন করে মহানগরবাসীর সহযোগিতায় প্রায় ১ লাখ নারী-পুরুষকে প্রায় ৩ মাস যাবৎ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি রাসিকের উদ্যোগে গৃহীত তৎপরতা করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দ, জাতীয় চার নেতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ, শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের এবং করোনায় সারাবিশে^ যত মানুষ মৃত্যুবরণকারীদের এবং সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, এমপি, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন ও আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন মেয়র। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৪৭ কোটি ১৮ লক্ষ ১২ হাজার ২৭৪ টাকা ৬৬ পয়সা। সংশোধিত বাজেটে এর আকার দাঁড়িয়েছে ৪৭৩ কোটি ৪৯ লক্ষ ৫৪ হাজার ৭৯৫ টাকা ৫৮ পয়সা। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাসিকের প্যানেল মেয়র-২ ও ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজব আলী, সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র ও ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিযাম উল আযিম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এবিএম শরীফ উদ্দিন, সচিব আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহ, বাজেট কাম হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম খান।

এরআগে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিষয়ে বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত। সভায় সংশোধিত ও প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদিত হয়। সভায় রাসিকের কাউন্সিলরবৃন্দ, বিভাগীয় ও শাখা প্রধানগণসহ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।