রাণীনগরে সরকারী ভাবে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা

সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় সরকারী ভাবে আমন মৌসমে অভ্যন্তরিন ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানে লক্ষমাত্রা ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বোরো মৌসুমে বরাদ্দের প্রায় ৬০ ভাগ চাল সরবরাহ করা হলেও লোকসানের কথা ভেবে চলতি মৌসুমে সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ঠ মিল মালিকরা চুক্তিতে আসছেন না।

এছাড়া বাজারে দাম বেশি থাকায় ধান সংগ্রহ গত মৌসুমের মতো চলতি মৌসুমেও শুন্যের কোঠায় থাকতে পারে বলে ধারনা সংশ্লিষ্ঠদের। সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ নভেম্বর রাণীনগর উপজেলা খাদ্য গুদামে চলতি আমন মৌসুমে ২৬ টাকা কেজি দরে ৯১৬ মেট্রিকটন ধান ও ৩৭ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৮৫৬ মেট্রিকটন সিদ্ধ চাল এবং ৩৬ টাকা কেজি দরে ১২৫ মেট্রিকটন আতব চাল সংগ্রহের উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনের দিনে মাত্র এক মেট্রিকটন ধান ক্রয় করা হলেও গত ২১ দিনে আর কোন ধান সংগ্রহ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সরকারী ভাবে চাল সরবরাহে মিলাররা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সূত্র মতে, রাণীনগর উপজেলায় ১২৫ জন মিলার রয়েছেন। গত ১০ ডিসেম্বর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র ৯ জন মিলার চাল সরবরাহে সরকারের সাথে চুক্তি করেছেন।

তবে এখন পর্যন্ত কোন চাল সরবরাহ করা হয়নি। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম সরকার ও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা তারিকুজ্জামান বলেন, গত বোরো মৌসুমে ৩ হাজার ৩৯৬ মেট্রিকটন সিদ্ধ এবং ৩৩৭ মেট্রিকটন আতব চাল সরবরাহের জন্য ১২৫ জন মিলার চুক্তি করলেও সম্পন্ন এবং আংশিকভাবে ৮০ জন মিলার ২ হাজার ১৮৮ মেট্রিকটন চাল সরবরাহ করেছেন। তবে ৩৩৭ মেট্রিকটন আতব চাল সরবরাহ করেনি। এছাড়া ৩ হাজার ৩৪১ মেট্রিকটন ধানের মধ্যে কৃষকের নিকট থেকে মাত্র ৩২ মেট্রিকটন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ঠ এবং স্থানীয়দের মতে, চলতি মৌসুমেও বাজারে সরকার নির্ধারিত ধানের দামের চাইতে খোলা বাজারে রকমভেদে প্রতিমন ধান দেড় থেকে দুইশ টাকা বেশি পাওয়ায় খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করছেন না কৃষকরা। ফলে আমন মৌসুমেও ধান সংগ্রহ ব্যহত হতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাণীনগর উপজেলা চাল-কল মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিতানাথ ঘোষ বলেন, বর্তমানে সরকারীভাবে যে দর বেধে দেয়া হয়েছে তার চাইতে বাজারে প্রতিমন চাল প্রায় ৩ থেকে ৪ শত টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ফলে কেউ সরকারকে চাল সরবরাহে চুক্তি করছেননা। কেউতো আর লোকসান দিয়ে ব্যবসা করবেনা। এমনিতেই গত মৌসুমে চুক্তিবদ্ধ প্রতিজন হ্যাসকিং মিলারদের প্রায় ১ লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোকসান হয়েছে। রাণীনগর উপজেলা ধান চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন,

গত মৌসুমে চুক্তিবদ্ধ যে সকল মিলাররা চাল সরবরাহ করেননি তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে আমন মৌসুমেও খোলা বাজারে ধান-চালের দর বেশি থাকায় সরকারী ভাবে কেউ ধান-চাল সরবরাহে আগ্রহ দেখাচ্ছেনা। ফলে সংগ্রহ অভিযান ব্যহত হতে পারে। এ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ঠ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।