রাণীনগরে শিলা বৃষ্টিতে কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ; ফসল ও বাড়ি ঘরের ব্যপক ক্ষতি

সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় শিলা বৃষ্টিতে ফসল ও বাড়ি ঘরের ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা, একডালা, মিরাট ইউনিয়নসহ অনেক এলাকার শিলা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া শিলা বর্ষনে উপজেলার জলকৈ রায়পুর গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় শত শত বাড়ি ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে ঝাজড়া হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির মূখে পরেছেন হাজার হাজার কৃষকসহ সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, বুধবার হঠাৎ মেঘের গর্জনসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির এক পর্যায়ে রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা, একডালা, মিরাট ইউনিয়নসহ অনেক এলাকার উপর দিয়ে শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। শিলা বৃষ্টিতে বেশ কিছু এলাকার কয়েক হাজার হেক্টর জমির পাকা, আধা পাকা ধান নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়াও শিলা বর্ষনে জলকৈ রায়পুর গ্রামের প্রায় অধিকাংশ বাড়ি ঘরের টিনসহ বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়ি ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে ঝাজড়া হয়ে গেছে। কৃষকরা বলছেন, এমনিতেই কয়েক বছর ধরে নানা কারনে ধান আবাদে লোকসান লেগেই আছে। এর মধ্যে শিলা বর্ষনে যে ক্ষতি হলো তা হয়তো আর পোষানো সম্ভব হবেনা। এতে ক্ষতির মূখে পরেছেন হাজার হাজার কৃষকসহ সাধারণ মানুষ।

রাণীনগর উপজেলার গুয়াতা গ্রামের নওশাদ আলী জানান, তিনি প্রায় ২০-২২ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়ে ছিলেন। শিলা বৃষ্টির কারণে তার প্রায় ১৫-১৬ বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সেই জমি গুলোতে বিঘাপ্রতি আনুমানিক ৪-৫ মন হারে ধান হতে পারে। এই শিলা বৃষ্টির কারণে তার বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভাটকৈ গ্রামের শাহাজান আলী জানান, তিনি প্রায় ২৮ বিঘা জমিতে ধান রোপন করে ছিলেন। শিলা বর্ষণে সব ধান ঝরে পরে গেছে। বিঘা প্রতি হয়তো এক-দুই মন করে ধান পেতে পারি।

চামটা গ্রামের মিলন, জলকৈ গ্রামের দুলাল চন্দ্র, আকনা গ্রামের মোসলেম উদ্দিনসহ আরো কৃষকরা জানান, পাকা ধান সম্পন্ন নষ্ট হয়ে গেছে। তবে যে দু/চার বিঘা জমির ধান কিছুটা কাঁচা রয়েছে সে সব জমিতে হয়তো কিছু ধান পাওয়া যাবে। এছাড়া বিঘা প্রতি দেড়/দুই মন করে ধান পাওয়া যেতে পারে।

সিলমাদার গ্রামের রফিকুল ইসলাম, মোজাম্মেল হোসেন জানান, শিলা বর্ষনে একদিকে মাঠের ধান অন্য দিকে বাড়ির টিনের ছাউনি ছিদ্র হয়ে ঝাঁজড়া হয়ে গেছে।

উপজেলার জলকৈ রায়পুর গ্রামের বাবলু চন্দ্র জানান, শিলা বৃষ্টিতে এই এলাকায় বোরো ধানেরতো ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া শিলা বর্ষনে রায়পুর গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি ঘরের টিন নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে তাদের বোরো ধানসহ বাড়ি ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, শিলা বর্ষনে কয়েক এলাকার আনুমানিক প্রায় দেড় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারনা করছি। তার পরেও মাঠ পর্যায়ে মাঠ কর্মিরা তালিকার কাজ শুরু করেছে। তালিকা হাতে পেলে ক্ষতির পরিমান বলা যাবে।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আল মামুন বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ্য এলাকা পরিদর্শন করেছি। এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বারদেরকে তালিকা তৈরি করে জাম দিতে বলেছি।