রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের দুস্থদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

সৈয়দ মাসুদ,  রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। নগরীর মালোপাড়াস্থ বিএনপি কার্যালয়ে মহান স্বাধীরতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের (বীর উত্তম) ৩৯তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন নেতৃবৃন্দ।
রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকীর হোসেন রিমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সভাপতি ও রাসিক সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানী সুমন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবেদুর রেজা রিপন। এসময়ে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ বাবলু, নিশান আলী, সাইদুল, সেন্টু, কালু, রাসেল বাবু ও আনোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক আনন্দ কুমার মন্ডল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাটুন, সুজন ও শিমুল, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু তালহা সম্্রাট, বাদশা, রিপন, টফি, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক রানা ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির রাজমাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রবি ও সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি, বোয়ালিয়া থানা ছাত্র সাবেক সভাপতি সজিব ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিনসহ স্বেচ্ছাসেবক দলের অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি বলেন, শহীদ প্রেসিডন্টে জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক।
আওয়ামী লীগ এই ১৪ বছরে বহু চেষ্টা করেও শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানাতে পারেন নি। কারণ ইতিহাস কথা বলে। জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশ প্রেমিক সেনা নায়ক। তিনি পাকিস্তানী বাহিনীর রক্তচক্ষুকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে দেশে ফিরে আসেন। দেশের যখন একেবারেই ক্রান্তিকাল তখন বাংলার মানুষকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করার জন্য কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষনা দেন তিনি। তিনি আরো বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে পুণরায় যখন দেশ আবার পরাধীনতা এবং হাহাকারের দিকে ধাপিত হচ্ছিল তখনই জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরেন। ভংগুর দেশকে একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যান। এক নায়কতন্ত্র (বাকশাল) বাতিল করে বহু দলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষিতে বিপ্লব ঘটান। দেশে কলকারখানার প্রসার ঘটান এবং বিদেশের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক দৃঢ় করেন। সেইসাথে বিদেশ থেকে রেমিডেন্স আনার জন্য দেশের জনশক্তি বিদেশে পাঠান।
দেশ যখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই একটি ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কিছু বিপদগামী সেনা বাংলার উন্নয়নের রুপকারকে গুলি করে হত্যা করেন। স্তিমিত হয় বাংলার উন্নয়ন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিলন বলেন, বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যার কিছুদিন পড়েই স্বৈরাচার এরশাদ জোর করে ক্ষমতা দখল করেন। তিনি দেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেন। এই অবস্থায় জিয়ার সুযোগ্য উত্তরস্বরী তাঁরই স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এরশাদ সরকারের পতন ঘটান এবং নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হন। কিন্তু বিনা ভোটের বর্তমান সরকার ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও ফরমায়েশি রায় দিয়ে দীর্ঘ ২ বছর তাঁকে কারাগারে রাখেন। তিনি এখন অনেক অসুস্থ। তার পরেও দেশের এই করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। সেইসাথে আগামীর রাষ্ট্র নায়ক তারেক রহমান সুদুর লন্ডন থেকে দেশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ প্রদান করেছেন।
তিনি আরো বলেন, সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা যখন ত্রাণের মালামাল লুট ও আত্মস্বাত করা নিয়ে ব্যস্ত, তখন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা করোনা ভাইরাসে কর্মহীন হয়ে পড়া মানেুষের পাশে শুরু থেকেই খাদ্য সামগ্রী থেকে অন্যান্য প্রয়োজনীয় পন্য বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। আগামীতেও এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান তিনি। সেইসাথে প্রতিটি মানুষকে অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন মিলন। এছাড়াও মাস্ক ব্যবহার, বার বার হাত ধোয়া এবং সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে জনগণের প্রতি আহবান জানান তিনি। জ্বর, সর্দি কাশি ও গলাব্যাথা হলে কুসুম কুসুম গরম পানি লবন দিয়ে কিংবা ভিনেগার মিশিয়েও গড়গড়া করা এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেয়ার কথা বলেন এই নেতা।