রাজশাহীর তিন হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন বিএনপি নেত্রী হাবিবা

সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী প্রতিনিধি: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সকল পৌরসভা ও ইউনিয়ন বিএনপির নিম্ন আয়ের তিন হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণের জন্য স্থানীয় নেতাদের নিকট খাদ্য সামগ্রী হস্তান্তর করেন রাজশাহী জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাহমুদা হাবিবা।

করোনা ভাইরাস সংকটের ফলে চলমান লকডাউনের প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া তিন হাজার পরিবারের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে এসব ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে। প্রতিটি পরিবারের ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৫ কেজি চাল, ২ কেজি আটা, ১ কেজি চিনি, ২ প্যাকেট সেমাই ও ১টি করে সাবান।

পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারের রফিক হাজির মিল থেকে দুই উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতাদের হাতে মাহমুদা হাবিবা নিজ উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেন। আর এই খাদ্য সামগ্রী সামগ্রী গ্রহন ও বিতরণে সমন্বয় করছে রাজশাহী জেলা বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে হাবীবা বলেন, বিএনপি মাটি ও মানুষের দল। জাতির প্রতিটি ক্রান্তিকালে বিএনপি মানুষের পাশে অতীতেও ছিলো, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের এই সংকটে অসহায় মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়াতে দলের নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে করোনা ভাইরাস সংকটের শুরু থেকেই সারাদেশে বিএনপির পক্ষ থেকে স্থানীয় নেতারা প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে যাচ্ছেন। রাজশাহী জেলাতেও প্রতিদিন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাইদ চাঁদ কর্মহীন হয়ে পড়া নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করছেন।

চলমান সংকট শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি’র এই কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানান মাহমুদা হাবীবা। তিনি আরো বলেন, বিএনপি যখন নিজ উদ্যোগে ও নিজ অর্থায়নে জনগণের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন, তখন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনগণের ত্রাণ সামগ্রী চুরি ও লুটপাটে ব্যস্ত সময় পার করছে। দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। লোক দেখানোর জন্য এক দুইজনকে আটক করছে সরকারের আজ্ঞাবহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা।

আর রাঘব বোয়ালরা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাহিরে। আবার অনেককে ত্রাণ নিতে যেয়ে সরাকারী নেতা ও সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যদের হাতে লাঞ্চিত ও শারিরীক নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে বলে জানান তিনি। হাবিবা বলেন, এই সরকার চলমান করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিদিন আক্রান্তে সংখ্যা বাড়লেও সরকারের সেদিকে নজর নেই। গার্মেন্টস ফ্যাক্টটরীসহ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মফস্বল পর্যায়ে দোকানপাট খুলে দিয়েছে সরকার।

এতে আরো বেশী করে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বলেন, জনগণের জীবনের মূল্য এই সরকার প্রধানের নিকট নাই। তিনি শুধু চেনেন অর্থ। তার নিজ কোষাগারে অর্থের টান পড়তেই লকডাউন শিথিল করে দিয়েছে। বিনা ভোটের সরাকারের এমন আচরণ ছাড়া আর ভাল কিছু আশা করা যায়না বলে জানান হাবিবা। বক্তব্য শেষে তিনি দুই উপজেলার সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভার নেতাদের হাতে খাদ্য সামগী তুলে দেন তিনি।