রাজশাহীর তানোরে জায়গার দখলের জেরে ৯০ বছরের বৃদ্ধ সহ পরিবারের সদস্যদের মারপিট

মাহবুব জুয়েল, রাজশাহী তানোর: তানোরে জায়গার দখল নিতে ৯০ বছরের বৃদ্ধ ও ৭৫ বছরের বৃদ্ধাসহ তার পুত্র ও কন্যাকে মারপিট করে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী প্রতিবেশীরা। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ ৪জনকে উদ্ধার করে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এরা হলেন, তানোর উপজেলার মুন্ডমালা পৌর এলাকার সাদিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত নাদের আলীর পুত্র বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন (৯০) মফিজের স্ত্রী আলিফনুর (৭৫) পুত্র জব্বার (৩৫) কন্যা খাদিজা (৩০)।

অপর দিকে আরো ২কন্যা সুমেরা (৪৩) ও ঝাটুনি (৫০) তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালীদের ভয়ে অসহায় ও দরিদ্র ওই পরিবারটি থানায় বা অন্য কোথাও অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। ১৫দিন চিকিৎসার পর আজ (১০ই জুন) বুধবার দুপুরে ওই বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ ৪জনকে তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। কিন্তু ছাড়পত্র পেয়েও ওই অসহায় দরিদ্র পরিবারটি প্রভাবশালীদের অব্যহত হুমকির মুখে নিজ বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন। তবে, আজ (১০ই জুন) বুধবার দুপুরে ওই বৃদ্ধ- বৃদ্ধাসহ তারা ভয় ও আতংক নিয়েই বাড়িতে ফিরে গেছেন।

এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সুত্রে জানা গেছে, তানোর উপজেলার মুন্ডমালা পৌর এলাকার সাদিপুর পূর্ব পাড়ার মৃত নাদের আলীর পুত্র মফিজ উদ্দিন (৯০) এর বাড়ির পার্শের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে দখলের চেষ্টা করে আসছিলো একই গ্রামের প্রভাবশালী মৃত মোবারক আলীর পুত্র সুলতান আলী ও তার পরিবারের লোকজন। গত (২৮ই মে) বিকাল ৫টার দিকে সুলতান (৫৭) স্ত্রী ফাতেমা (৫৫) কন্যা জুলেখা (৩২) শওকত আরী (৪০) পুত্র রুবেল (২৫), রকি (২০), রাশেল (২২)সহ তার লোকজন হাতে লোহার রড়, লাঠি সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের বাড়ির পার্শ্বের নিজ জায়গা এবং বাড়িতে যাওয়ার রাস্তায় জঙ্গিকাটা দিয়ে ঘিরে বাড়িতে যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এসময় নাদের আলীর পুত্র বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিন (৯০) নিষেধ করা মাত্রই সুলতান ও তার লোকজন বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের উপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারপিট করে মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা ফুলা ও কালশিরা ও রক্তাক্ত জখম করে শুরুতর ভাবে আহত করেন।

 

এসময় বৃদ্ধকে বাচানোর জন্য এগিয়ে আসলে বৃদ্ধা মফিজের স্ত্রী আলিফনুর (৭৫) কেও মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলাফুলা ও কালশিরা রক্তাক্ত জখম করার পাশাপাশি বাম হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়। অপর দিকে পুত্র জব্বার (৩৫) কে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা ফুলা ও মালশিরা জখম এবং দু’কান কেটে ফেলা হয়। কন্যা খাদিজা (৩০) কে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলা ফুলা ও কালশিরা জখম করা হয়। অপর দিকে সুমেরা (৪৩) ও ঝাটুনি (৫০) তাদেরকেও বধেড়ক ভাবে মারপিট করা হয়। এনিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সুলতান ও তার পরিবারের কেউ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি না হয়ে ইড়িয়ে যান। এবিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, অভিযোগ করলে বৃদ্ধ ও তার পরিবারকে সকল প্রকার আইনগত সুবিধা দেয়া হবে। তিনি বলেন, আতংক ও ভয়ের কোন কারন নেই। তিনি বলেন, সকলকে আইনি সহায়তা দিতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।