রাজশাহীতে লকডাউনে বন্ধ, ক্ষতি তিন হাজার কোটি টাকা

সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীতে ফাস্টফুড, চাইনিজ ও বাংলা খাবারের জন্য বিখ্যাত চিলিজ রেস্টুরেন্ট। এই রেস্টুরেন্ট মোট ৭১ জন কর্মচারী। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ব্যবসা হতো এই রেস্টুরেন্টে।

করোনাকালীন দুর্যোগের কারণে গত মার্চ মাসের ২৪ তারিখ থেকে রেস্টুরেন্টটি বন্ধ। ফলে লাখ লাখ টাকার লোকসানে পড়েছেন রেস্টুরেন্টটির মালিক ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান রিংকু। তিনি জানান, গত তিন মাস ধরে দোকান বন্ধ। অথচ প্রতিমাসে মোটা অঙ্কের টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে।

আবার ৭১ জন কর্মচারীকে পুরো বেতন দিতে না পারলেও অর্ধেক বেতন দিতে হচ্ছে। তারা তো আমাদের মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকেন। সব মিলিয়ে গত তিন মাসে তার কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। তিনি আরো জানান, তার মতো তাদের সমিতির অধিভুক্ত জেলার আরো ১৫৪ টি রেস্তোঁরার মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানবেতর জীবনযাপন করছেন রেস্তোরাঁ পাঁচ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী বলেন,

রাজশাহীর ৫০ হাজার ব্যবসায়ীর যা ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে উঠতে দুই থেকে তিন বছর লেগে যাবে। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনি বলেন, রাজশাহীতে বড় কোনো ইন্ডাস্ট্রিজ নেই। তারপরও ছোট-বড়, মাঝারি সবমিলিয়ে জেলায় ৫০ হাজার ব্যবসায়ী রয়েছেন। এর মধ্যে মুদিখানার ব্যবসা চললেও অন্য ব্যবসায় গত তিন মাসে প্রচুর লোকসান হয়েছে ব্যবসায়ীদের। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, পোলট্রি খাত, ডেইরি খাত, মৎস্য খাত ও গার্মেন্টস ব্যবসায় ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসান হয়েছে।

এছাড়া কৃষি পণ্যের ব্যবসায়ও চাষীদের লোকসান হয়েছে। সবমিলিয়ে গত তিন মাসের লকডাউনে জেলায় আনুমানিক আড়াই থেকে তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করার চেষ্টা করছি। হয়তো সঠিক ক্ষতির পরিমাণ দুই তিনদিনের মধ্যেই দিয়ে দিতে পারবো।