রাজশাহীতে আলফাতাহ সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে গ্রাহকের লক্ষাধিক টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

সৈয়দ মাসুদ, রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাংঙ্গা থানার পিছনে আলফাতাহ এস সি সি এস লিমিটেডের সভাপতি এনামুল হকের বিরুদ্ধে সদস্যের জমাকৃত সঞ্চয়ের মুনাফার টাকা ও সমিতিতে জামানত হিসাবে জমাকৃত ডিপোজিটের লক্ষাধিক টাকা আত্নসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। কাশিয়াডাংঙ্গা থানার পিছনে ডা জাফোরের বাসার নিচতলায় কোন সাইন বোর্ড ছাড়ায় এ আলফাতা সমবায় সমিতি অফিস।

গত মঙ্গলবার সন্ধায় এ ঘটনায় কাশিয়াডাঙ্গা ফেত্তাপাড়া এলাকার ফজলু শেখের ছেলে ওই সমবায় সামিতির সদস্য আলী জামাল সমিতির সভাপতি বাগমারা উপজেলার বালানগর মোহাম্মাদপুর গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে এনামুল হকের বিরুদ্ধে ৫ লক্ষ জমানো কৃত টাকা আত্নসাতের অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনা সূত্রে জানান গেছে, উপজেলার বালানগর মোহাম্মাদপুর গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে এনামুল হকের ছেলে ও বালানগর কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক এনামুল হক আলফাতা সঞ্চয় ও ঋীনদান ও সমবায় সমিতি লি: নামের একটি সমিতির সভাপতি। কাশিয়াডাঙ্গা থানার পিছনে ডা জাফোরের বাসার নিচতলায় কোন সাইন বোর্ড ছাড়ায় এ সমিতির অফিসের কার্যক্রম চলে।

এ সমিতির সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেয়া থাকলেও লাইসেন্সের রেনু করা হয়নি প্রায় ১০ বছর যাবত। সমিতির এক জন ম্যনেজার ও একজন কর্মীর ৪টি সাদা চেক নিয়ে তাদের কে দিয়ে সমিতি পরিচালনা করান। তবে এখন পর্যন্ত ওই দুই জনের কোন নিয়গ পত্র দেয়া হয়নি আলফাতা সমবায় সমিতি পক্ষ থেকে। এ ছাড়া ওই দুই কর্মচারির গত ৪ মাস যাবত কোন বেতন ভাতা দেয়নি সমিতির সভাপতি। কর্মচারির পিএফ ও ক্যজুয়েটি কতো টাকা সমিতির সভাপতি কাছে জমা হয়েছে তার হিসাব ও কোন কাগজ পত্র দেয়নি। এ ছাড়া সমিতির একাধিক সদস্য অভিযোগ সমিতিতে জমা কৃত সঞ্চয় থাকলেও তাদের কে মুনাফার টাকা না দিয়ে সমিতির সভাপতি প্রতারণা করছে বলেও অভিযোগ উঠে।

অভিযোগ সূত্রে জানান গেছে, গত ১৪-১০-২০১৯ ইং তারিখ বেলা তিন টার দিকে সমিতির সদস্য আলী জামালের বাড়িতে গিয়ে ৫ লক্ষ টাকা তিন বছর মেয়াদী লাভ সহ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে ওই সমিতির ম্যানেজার মো লিটন হোসেন ও কর্মী মো ইমনের সামনে ৫ লক্ষ টাকা নেয় সমবায় সমিতির সভাপতি বাগমারা উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামের মৃত কাশেম মোল্লার ছেলে এনামুল হক। এবং সদস্য আলী জামান কে পরে একটি ৩০০ টাকার স্টেম্প করিয়া দেয়ার কথা বলিয়া আলী জামান কে একটি পাশ বই ও রশিদ করে দিয়েছে। স্টেম্প করে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন তালবাহানা করে আসছে সমিতির সভাপতি র্দীঘদিন যাবত। ৩ বছর পরে সদস্য আলী জামানের ফিকস্ট ডিপোজিটে রাখা ৫ লক্ষ টাকা ও তার লাভসহ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে প্রতারণা মূলক ৫ লক্ষ টাকা আত্নসাত করেছে। বিষটি স্থানিয় ভাবে সমাধান করার আশ্বাস দেয়ার পরে বিভিন্ন তাল বাহানা করে আসছে সে।

নিরুপায় হয়ে সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে গত মঙ্গলবার আরএমপি কাশিয়াডাংঙ্গা থানায় প্রতারণার একটি অভিযোগ দায়ের করেন আলী জামাল। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষটি স্থানিয় মেম্বার সমিতির ম্যনেজার লিটন ও কর্মী ইমন ও সমিতির সভাপতি এনামুলের উপস্থিতিতে বাদিকে নিয়ে মিমাংসার জন্য কাশিয়াডাঙ্গা থানার পিছনে ডা জাফোরের বাসার নিচতলায় বৃহস্পতিবার সন্ধায় সমাধানের জন্য বসেন। এসময় সদস্যর টাকা আত্নসাতের বিষয়টি স্থানিয় মেম্বারসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সমিতির সভাপতি এনামুল হক ৩০০ টাকার স্টেম্পে লিখা পড়া করেন বাদি আলী জামালের সাথে। সমিতির সভাপতির সম্মতিক্রমে আত্নসাতের টাকা ও চারটি চেক ফেরত দেয়ার কথা স্বীকার করেন সমিতির সভাপতি এনামুল হক। পরে স্টেম্প ও চেক গুলি অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই সোহেল রানার কাছে জমা রাখেন। এ বিষয় সমিতির ম্যনেজার মো লিটন ও কর্মী ইমনের জানান, আমাদের সামনেই সমিতির সদস্য আলী জামানের কাছে থেকে তিন বছরের জন্য টাকা নেয়া হয়েছিল। পরে তার সাথে একটি স্টেম্পে লিখিত দেয়ার কথা ছিল তা সভাপতি করেনি। এবং লাভসহ তার টাকা ফেরত দিতে পারেনি এ জন্য সদস্য সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করেন।

সমিতির এসব প্রতারনার জন্য সে খানে চাকুরী থেকে অব্যহত চেয়েছি সভাপতির কাছে। এ ছাড়া সমিতির সভাপতি আমাদের দুই জন কর্মীর সাদা ৪টি চেক নিয়ে আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। তিনি আরো বলেন, সদস্য আলী জামানের অভিযোগের পরে বৃহস্পতিবার সন্ধায় থানার পিছনে সমিতির অফিসে স্থানিয় ইউপি সদস্যসহ এলাকার কিছু ব্যক্তি বর্গ বসে সমিতির সভাপতির সম্মতিতে একটি লিখিত স্টেম্প করা হয়। কিন্তুু পরের দিন সেই সমাধানের বিষয়টি অস্বীকার করেন সমিতির সভাপতি এনামুল হক। এ বিষয় সমিতির সভাপতি এনামুল হক জানান, তবে এসব প্রতারণার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগ টি মিথ্যা। আমাকে ফাঁসাতে এমন মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

ওই সদস্যর কাছেই ৪০ হাজার টাকা সমিতি পাবে। হটাৎ আমাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জোর করে স্টেম্প ও চারটি চেক নিয়েছে। এ বিষয় কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি মনসুর আলী আরিফ জানান, সমিতির লাইসেন্স ফেল। সমিতির দুই কর্মচারীর কাছে থেকে ৪টি সাদা চেক নিয়ে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের র্দীঘদিন যাবত বেতন ভাতা দেয়নি সমিতির সভাপতি এনামুল। থানায় বৃহস্পতিবার সকালে আলী জামাল নামের এক সদস্য তার সমিতিতে রাখা ৫ লক্ষ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ করেন সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে। বিষটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।