রাজবাড়ীতে আবারও পানি বাড়ছে

রাজবাড়ীতে আবারও বাড়ছে পদ্মার পানি। আর এতে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। শুক্রবার ৪ সেন্টিমিটার পানি  কমলেও রাজবাড়ীতে পুনরায় পদ্মা নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ৩টায় পদ্মার দৌলতদিয়া পয়েন্টে পানি ৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে। শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বিপদ সীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একদিন বাদ দিয়ে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর পানি আবার বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শনিবার সকালে প্রথম দফার পানি বৃদ্ধির রেকর্ড ভেঙে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ১১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সদরের পদ্মার মহেন্দ্রপুর ও পাংশা সেনগ্রাম পয়েন্টে পদ্মার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।জেলার সদররে গোয়ালন্দ, পাংশা ও কালুখালী উপজেলার প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও খাদ্য সংকট। এদিকে, পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরের এলাকা গুলো নিমজ্জিত হয়েছে। অনেকই বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। যারা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। তাছাড়া গবাদি পশুর খাদ্য নিয়েও তারা ভুগছেন।রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধের সদর উপজেলার বারাট ইউনিয়নের গোপালবাড়ি এলাকার তারাই ব্যাপারী ও হাকিম বিশ্বাসের বাড়ি সংলগ্ন ৪০ মিটার এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পরেছে। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সাড়ে ৪ শত বস্তা বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। বন্যায় জেলার চরাঞ্চলের ৭টি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পরেছে। এসব পরিবারের অনেকে তাদের গবাদি পশু ও শিশুদের নিয়ে উঁচু বাঁধে ও আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করে খাদ্য অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বন্যা দুর্গত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সব জায়গায় পানি। রাস্তাঘাট, ব্রিজ তলিয়ে গেছে, এলাকায় নৌকা ছাড়া চলাচল করা যাচ্ছে না।গোয়ালন্দ উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। নতুন করে কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া এবং কালিকাপুরের পাঁচ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছে। বন্যায় আক্রান্ত মানুষ যেসব রাস্তায় পানি ওঠেনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানি এবং খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদি পশু নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করায় ডাকাতির আতঙ্কে ভুগছেন এসব মানুষ। এখানে গবাদিপশুর খাদ্যও সংকট দেখা দিয়েছে।রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিসলাস বেগম জানান, বন্যায় কবলিত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৭০ মেট্রিকটন চাল ও নগদ ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বিতরণের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে সব দুর্গত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে।