রাজধানীর উত্তরায় ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

নিজস্ব সংবাদদাতা:-  রাজধানীর উত্তরায় ফেন্সিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার করেছে র‌্যাব- ১। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মোঃ ইকবাল হোসেন (৩০), ) মোঃ স্বপন মন্ডল (৩১)। এসময় তাদের কাছ থেকে ১১৮৮ বোতল ফেন্সিডিল, নগদ ২,৪৫০ টাকা ও ০৪ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সহ মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মিনিট্রাকটি জব্দ করা হয়।

বুধবার সকালে উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আব্দুল্লাপুর মাছ বাজারস্থ মাছের বাজারের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত ত্বাসীন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে পাকা রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পেরে অভিযান চালায় তারা।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে ফেন্সিডিল নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ফেন্সিডিলের চালানগুলো মোসুমী ফসল ভর্তি গাড়ি/ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট সরবরাহ করে থাকে। ফেন্সিডিলের চালানটি তারা মিনিট্রাকের মধ্যে বিশেষ কৌশলে রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসছিল। এই চক্রের অন্যতম সদস্য কুষ্টিয়া জেলার জনৈক মাদক ব্যবসায়ী। সে অবৈধভাবে ফেন্সিডিলের চালান দেশে নিয়ে এসে ধৃত আসামী ইকবাল ও স্বপনের এর মাধ্যমে মাদকের চালান ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় নিয়ে এই সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের নিকট পাইকারী মূল্যে বিক্রয় করে ।

ধৃত আসামী ইকবাল পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার। সে প্রায় ১০ বছর যাবত গাড়ী চালিয়ে আসছে। সে কুষ্টিয়া জেলার জনৈক মাদক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত হয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে মিনিট্রাকে বিশেষ কৌশলে ফেন্সিডিলের চালান রাজধানী ঢাকায় নিয়ে আসে। সে ইতিপূর্বে ১০/১৫ টি মাদকের চালান রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের জেলাসমূহে সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করে। চালানপ্রতি মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে ৩০,০০০ টাকা করে দিত বলে জানায়। ধৃত আসামী স্বপন জব্দকৃত মিনি ট্রাকের হেলপার। ইতিপূর্বে সে এলাকায় রিক্সা চালাত। সে ধৃত আসামী ইকবালের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ে জড়িত হয়। মাদকদ্রব্য পরিবহনে সে ইকবালের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও সে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মাদক কারবারীদের নিকট মাদকদ্রব্য পাইকারী মূল্যে বিক্রয় করে বলে ধৃত আসামী স্বীকার করে। সে চালানপ্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট হতে ১০/১৫ হাজার টাকা করে পায় বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে জানায় সে।