রাউজানে শিক্ষকের লাশ দাফনে বাধা, জন্মভূমি রাউজান ফিরিয়ে দিলো, দাফন হলো রাঙ্গুনিয়ায়

 মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ গ্রামের বাড়িতে স্বজনরাও মুখ ফিরিয়ে নেয়, মধ্যরাতে রাস্তায় লাশ রেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবার। মাটি দিল না রাউজান, মধ্যরাতেই কলেজশিক্ষকের দাফন হল রাঙ্গুনিয়ায়। রাঙ্গুনিয়ার ভাড়া বাসায় জ্বর-শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া এক কলেজ শিক্ষকের লাশ ফেরত পাঠিয়েছে তার নিজ উপজেলা রাউজানের লোকজন। তবে নিজ এলাকায় দাফনে বাধা পেলেও রাঙ্গুনিয়ায় তার দাফনে এগিয়ে এসেছে পুলিশ ও গাউছিয়া কমিটির লোকজন।
 চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ভর্তির আগেই তার মৃত্যু হয়। এরপর দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় নিজ উপজেলা রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায়। কিন্তু সেখানে তার স্বজনরা লাশটি দাফনের ব্যবস্থা না করে উল্টো ফেরত পাঠায় রাঙ্গুনিয়ায়। মারা যাওয়া আনোয়ার হোসেন (৫৯) রাঙ্গুনিয়ার সৈয়দা সেলিমা কাদের চৌধুরী ডিগ্রী কলেজে শিক্ষকতা করতেন।
এ শিক্ষক রাত ৮টার দিকে জ্বর-শ্বাসকষ্টে মারা যান। গত ৯ তারিখ তিনি নমুনা পরীক্ষা দিলেও এখনও রিপোর্ট আসেনি। তার বাড়ি রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় হলেও তিনি রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর ইউনিয়নের পূর্ব সৈয়দবাড়ি গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন। নিজ গ্রাম রাউজানের নোয়াপাড়ায় লাশ দাফন করতে বাধা পেলেও রাঙ্গুনিয়ার পাগলা মামার মাজার প্রাঙ্গনে লাশ নিয়ে অসহায় হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার পরিবারের সদস্যরা। তাদের এই অসহায় অবস্থার খবর পেয়ে এগিয়ে আসে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা গাউছিয়া কমিটি। এলাকার উদ্যমী তরুণদের সাথে নিয়ে কবর খুড়ে জানাজা নামাজ পড়ে পূর্ণ ধর্মীয় মর্যাদায় দাফন করা হয় এ শিক্ষককে। এই কাজে সার্বিক সহযোগিতা করে মানবিকতার স্বাক্ষর রাখেন এলাকার নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। রাঙ্গুনিয়ার সৈয়দা সেলিমা কাদের চৌধুরী ডিগ্রী কলেজের এ শিক্ষকের মৃত্যুর খবরে এলাকায় তার ছাত্র-ছাত্রী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
কিন্তু তার লাশ দাফন না করে নিজ উপজেলা থেকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিন্দার ঝড় উঠে। পাশাপাশি রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ ও গাউছিয়া কমিটির সদস্যদের মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসাও করছেন অনেকে।