রমজানকে সামনে রেখে জমজমাট ফিশারিঘাট

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ দীর্ঘদিন পর আবারও জমজমাট হয়ে উঠেছে নগরের পাইকারি মাছের আড়ত নতুন ফিশারিঘাট এলাকা। ভোর হতেই শত শত ক্রেতা-বিক্রেতা ও শ্রমিকরা ভিড় জমাচ্ছেন সেখানে। চলছে মাছ কেনা-বেচা।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে ফিশারিঘাট গিয়ে দেখা গেছে, সামাজিক দূরত্ব না মেনেই চলছে মাছ কেনার উৎসব। পাইকারি ক্রেতারা বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কোল্ড স্টোরেজে থাকা মাছ কিনতেও চলছে দরদাম।

ফিশারিঘাটের একটি কোল্ড স্টোরেজের মালিক জানান, করোনা ভাইরাসের প্রকোপের পর এ বছর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশ তেমন বিক্রি হয়নি। গত বছর এই সময়ে কয়েকশ টন ইলিশ বিক্রি হয়েছে। এখন আমার মজুদ আছে ৩০ হাজার কিলোগ্রাম। আমরা সারা বছর মাছ সংগ্রহ ও স্টোরেজ করি। গত কয়েক মাস ধরে রপ্তানিও বন্ধ। এখন খুচরা বিক্রেতারা কিছু ইলিশ মাছ কিনছেন।

এছাড়া রমজান উপলক্ষে মজুদ রাখা কোল্ড স্টোরেজের ইলিশ, কোরাল, বাটা, পোয়া, রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বেশ কিছুদিন বেচা-কেনা বন্ধ থাকায় ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এখন আবার শুরু হয়েছে ব্যবসা। তবে পাইকারি ক্রেতাদের পরিবহন সমস্যার কথা বিবেচনায় অতিরিক্ত লাভ ছাড়াই মাছ ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

একজন ট্রলার মালিক বলেন, সাগরে মাছ ধরার জন্য গত একমাস ধরে জাহাজ ও ট্রলার যায়নি। জ্বালানী তেল না পেয়ে অনেক ট্রলারও উপকূলে ফিরে এসেছে। এছাড়া কিছু ট্রলারের জেলেরা লইট্যা, রূপচাঁদা, ছুরি ও চিংড়ি সংগ্রহ করে এনেছেন।

সোনালি যান্ত্রিক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির একাংশের নেতা বলেন ‘ফিশারিঘাটে পুরোনো মৎস্য আড়তে ৮৪ জন ব্যবসায়ী ছিলেন। এরমধ্যে ১০-১৫ জন ব্যবসায়ী নতুন মাছ বাজারে দোকান নিয়েছেন। বেশির ভাগ ব্যবসায়ী পুরোনো মাছ বাজারে রয়ে গেছেন। উভয় বাজারেই এখন মাছের ব্যবসা চলছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে সামনের মৌসুমে ইলিশ আসতে পারে।

কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নতুন ফিশারিঘাটে মাছ বিকিকিনির জন্য রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। তাই সেখানে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ও বেশি থাকে। শ্রমিকরাও ট্রলার থেকে মাছ নিয়ে কোল্ড স্টোরে নিয়ে যাচ্ছেন, পাইকারি ব্যবসায়ীদের ট্রাক-ভ্যানে তুলে দিচ্ছেন। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এসব মাছ নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে।

এদিকে করোনাকালে ফিশারিঘাটে সামাজিক দূরত্ব না মেনে এভাবে বিকিকিনি চলায় তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সবার মাঝে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন এলাকার মানুষ আসছে ফিশারিঘাটে। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা, কফ-থুতু ফেলা হচ্ছে। মানুষের ঠাসাঠাসিতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে পারে। নগরের বড় বড় বাজারগুলো যখন উন্মুক্ত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, সেইসময় ফিশারিঘাটের এই ভিড় আতঙ্কই ছড়াচ্ছে।