রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে খাদ্যের আশায় ভীড় করছে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবি মানুষ।

আমিরুল কবির সুজন,  এনজিও গুলোর ত্রান তৎপরতা নেই মিঠাপুকুরে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম রংপুরের মিঠাপুকুরে করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমজীবি মানুষের চাহিদার তুলনায় সরকারী খাদ্য বরাদ্দ কম হওয়ার কারনে তাদেরকে ঘরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেকে কাজের সন্ধানে ঘর থেকে বহিরে বের হচ্ছেন তবু মিলছেনা কাজ। এমন পরিস্থিতিতে ত্রান তৎপরতায় নেই মিঠাপুকুরে প্রতিষ্ঠিত এনজিও গুলো। শ্রমজীবি মানুষের খাদ্য চাহিদা পুরনে আরো বরাদ্দের দাবী জানিয়েছেন বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। মিঠাপুকুরে উপজেলায় গত শনিবার পর্যন্ত ১৭টি ইউনিয়নের ৩১০টি গ্রামে সরকারী বরাদ্দের পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে ৭০ মেঃটন চাল বিতরন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মামুন ভুঁইয়া জানান আরো ৩৮ মেঃটন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসব চাল প্রতি ইউনিয়নে ২মেঃটন করে বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়াও স্থানীয় এমপি এইচএন আশিকুর রহমানের পুত্র মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব রাশেক রহমানের বরাদ্দকৃত ৯মেঃটন চাল ও আলু উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ১৭ ইউনিয়নে বিতরন করা হয়েছে। অপরদিকে ১০টাকা কেজি দরে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে চাল পেয়েছেন ২৯,৮০১ পরিবার। পুর্বের কার্ডধারী পরিবারগুলোই এই সুবিধা পেয়েছে বলে জানান অনেকেই। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার কারনে মিঠাপুকুর উপজেলায় ছিন্নমুল, ভিক্ষুক, দিনমজুর, রিক্সাভ্যান, ইমারত শ্রমিক, ক্ষুদ্র চা-পান দোকানদার, হোটেল শ্রমিক, নরসুন্দর সহ বিভিন্ন শ্রমজীবি পরিবারের সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ৯০হাজার। এমতাবস্থায় এখনো অনেক পরিবারের মাঝে ত্রান সামগ্রী পৌছানো সম্ভব হয়নি। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম হওয়ায় দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ঘরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ প্রসংগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশফিকুর রহমান বলেন, পর্যায়ক্রমে আরো বরাদ্দ পাওয়া যাবে এবং কর্মহীন হয়ে পড়া সকল শ্রমজীবি পরিবারকে সরকারী সুযোগ সুবিধার আওতায় আনা হবে। এই উপজেলায় কয়েকটি বেসরকারী সংস্থার (এনজিও) কার্যক্রম রয়েছে। কিন্তু ত্রান তৎপরতায় ওইসব সংস্থার দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে স্থানীয় কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছে। সংগঠনগুলো হলো-উপজেলা আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, আলোকিত শঠিবাড়ী, চৌধুরী গোপালপুর কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন, জায়গীরহাট বনিক সমিতি ও ছাত্রবন্ধু ঐক্য পরিষদ। এছাড়াও ব্যাক্তিগতভাবে জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নাসরিন দিলারা আফরোজ পল্লবী, বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের সমাজকর্মী হাবিবুর রহমান জুয়েল, কাফ্রিখাল ইউনিয়নের জয়নাল আবেদীন মাষ্টার খাদ্য বিতরন করেছেন। নাজনিন নুরে জান্নাত নামে একজন ছাত্রীও নিজে মাস্ক তৈরী করে রানীপুকুর ইউনিয়নে গৃহিনি ও শিশুদের মাঝে বিতরন করেছেন। এছাড়াও জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার ২শত পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরন করেছেন। অপরদিকে এইচএন আশিকুর রহমান এমপি করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা এবং খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের জন্য একটি তহবিল গঠন করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে খাদ্র সামগ্রী বিতরনের জন্য আরো সরকারী বরাদ্দের দাবী জানিয়েছেন উপজেলা সামাজিক সুরক্ষা ফোরামের সাধারন সম্পাদক প্রদীপ কুমার গোস্বামী সহ বিভিন্ন আমিরুল কবির সুজনসামাজিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।