যৌতুক না দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মোহম্মদপুরের জাহানারা

কৌশিক আহম্মেদ সোহাগ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি: মাগুরার মহম্মদপুরে যৌতুক না দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়ে জাহানারা খাতুন (২২) নামের এক গৃহবধু মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। তাকে স্বামী, শাশুুড়ি ও দেবর মিলে জোরপূর্বক হারপিক খায়িয়ে হত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে এলাকাবাসি উদ্ধার করে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল করেজ হাসপাতালে ভর্তি করা। সেখানে তার দুইটি অপারেশন করা হলেও বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধু জাহানারা উপজেলার রায়পাশা গ্রামের আসাদ তালুকদারের মেয়ে। গত ১৫জুন উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধুর পিতৃপরিবার জানান, যৌতুকের জন্য নিয়মিত চাপ দেওয়া হত জাহানারা খাতুনের ওপর। গত তিন মাস আগে বিদেশ থেকে বাড়িতে এসে অটো কেনার জন্য এক লাখ টাকা দাবি করে জাহানারার স্বামী বিল্লাল মোল্যা। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারিরীক মানষিক ভাবে নির্যাতনের হতে হতো নিয়মিত। এছাড়া তার স্বামী, শাশুুড়ি ও দেবর মিলে জোরপূর্বক হারপিক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জাহানারা খাতুনের খাদ্যনালীর রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

তাকে জরুরী ভিত্তিতে অপারেশনের মাধ্যমে খাদ্য নালীর নতুন পথ তৈরী করা হয়। এরপর বিভিন্ন জায়গায় ইনফেকশন শুরু হয়। আরো একটি অপারেশন করা হলেও বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। জাহানারার পিতা আসাদ তালুকদার জানান, গত ২০১৫ সালে দীঘা গ্রামের আহম্মদ মোল্যার ছেলে বিল্লাল মোল্যার সাথে মেয়ে জাহানারার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মেয়ের স্বামী ও শশুর বাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করতে থাকে। তিনমাস পর বিল্লাল আমার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়ে বিদেশ যায়। এরই মধ্যে তাদের একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়।

বিদেশে চারবছর থাকার পর বিল্লাল বাড়ি এসে বেকার হয়ে পড়ে। সে আমার কাছ থেকে আরো এক লাখ টাকা নেওয়ার জন্য মেয়েকে চাপ দেয়। মেয়ে রাজি না হলে গত ১৫জুন তাকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করে। এতে মেয়ে রাগের বশে গালিগালাজ করলে তার শশুর ও শাশুড়ি জোরপূর্বকভাবে হারপিক খাওয়ায়। তিনি আরো জানান, শুধুমাত্র যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমার মেয়ে এখন মৃত্যুর মুখোমুখি। এ ঘটনায় তারা বিচার চেয়ে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানিয়েছেন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ জাহানারা কান্না জড়িত কন্ঠে তার স্বামীসহ শশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করে জোর করে হারপিক খাওয়নোর কথা বলে জানান আমি বাঁচতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। এ ব্যাপারে জানতে বিল্লালের বাড়িতে গেলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়িতে থেকে পালিয়ে যায় বিল্লাল। বিল্লালের মায়ের কাছে পূত্রবধূ জাহানারাকে নির্য়াতন করে জোরপূর্বক হারপিক পাওয়ানোর বিষয়ে জানাতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। মহম্মদপুর থানার ওসি তারক বিশ্বাস জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত