নেত্রী সেজে পতিতা ও মাদক ব্যবসায় ক্ষমতার রাঘববোয়াল

যুব মহিলা লীগের পদ বাগিয়ে অভিজাত এলাকায় জমজমাট নারী ব্যবসাসহ ভয়ঙ্কর সব অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। নিজেকে পরিচয় দিতেন ক্ষমতার রাঘববোয়ালদের কর্মী হিসেবে।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের এ সাধারণ সম্পাদক ।

জানা গেছে, সব পাঁচ তারকা হোটেলেই ছিল পাপিয়ার এসকর্ট ব্যবসা। তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় নেত্রী হিসেবেও পরিচয় দিতেন । গতকাল সকালে স্বামী মফিজুর রহমান চৌধুরী সুমন, সাবিক্ষর খন্দকার (২৯), শেখ তায়্যিবা (২২)সহ আরও দুজন বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করেছে র‌্যাব। তাদের অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শুরুতে পাপিয়া প্রথমে নিজের দাপুটে অবস্থানের পরিচয় দেন। তবে কোনো কিছুতে গুরুত্ব না দিয়ে পাপিয়ার কাছ থেকে র‌্যাব কর্মকর্তারা উদ্ধার করতে থাকেন অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

তিনি জানান, পাপিয়ার আয়কর ফাইলে বছরে আয় দেখানো হয়েছে ২২ লাখ টাকা। কিন্তু গত তিন মাসে তিনি হোটেল বিল পরিশোধ করেছেন প্রায় তিন কোটি টাকা। এই টাকার উৎসের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া জানিয়েছেন, হোটেলে আসা লোকদের কাছে মেয়ে সরবরাহ করতে তিনি। হোটেলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ওই ব্যক্তিদের ব্লাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হতো।

পাপিয়ার এ অপকর্মে জড়িত থাকা সাতজন উঠতি বয়সী তরুণীর জানিয়েছে, তাদের প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে অপকর্ম করাতো। এতে কেউ রাজি না হলে পেটাতো পাপিয়া। মেয়েদের অশ্লীল ছবি হাইপ্রোফাইল লোকদের ফোনে পাঠিয়ে লোভ দেখাতো এবং তারা এলে হোটেলে জিম্মি করা হতো।