যদি বেঁচে থাকি নতুন মেয়র ও কখনো বিলবোর্ড উঠাতে পারবে না আ জ ম নাছির উদ্দীন

মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ একসময় বিলবাের্ডের দৌরাত্মে সবুজের শহর চট্টগ্রাম ঢাকা পড়লে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছির উদ্দীন দায়িত্ব নেয়ার পর পর চট্টগ্রাম শহরকে। মুক্ত করে বিলবোর্ডে জঞ্জাল থেকে। বলা যায়, মেয়র হিসেবে আ জ ম নাছিরের এটাই ছিল সবচেয়ে বড় সাফল্য। কিন্তু সম্প্রতি আগামী মেয়র নির্বাচনে তাঁর দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিলবোর্ড ব্যবসায়ীদের জন্য পােয়াবারাে হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। বলা হচ্ছে পুরােনাে বিলবোর্ড ব্যবসায়ীরা আবারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। যার প্রমাণ মিলছে নগরজুড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে লাগানো নতুন বিলবোর্ড গুলো।

নগরীর সিটি গেইট, টাইগারপাস, খুলশী, বহদ্দারহাট সহ বিভিন্ন পয়েন্টে এখন নতুন করে শোভা পাচ্ছে প্রায় অর্ধশতাধিক বিলবোর্ড। কারা জড়িত এসব বিলবোর্ডে পেছনে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিলবোর্ডের নাম্বারে বিজ্ঞাপনদাতা সেজে কথা হয় এক ব্যবসায়ীর সাথে। মো. আলী নামের সেই ব্যবসায়ী জানান, প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে টাইগার পাসের বিলবোর্ড ভাড়া দেবেন তিনি। তবে স্থানভেদে তারতম্য হবে ভাড়ার। বিল বোর্ডের অনুমোদন আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এখনাে কোনাে অনুমোদন দেয়নি। তবে আপনি নিশ্চিন্তে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। আমাদের সিন্ডিকেট আছে। সমস্যা হবে না। তাছাড়া করােনার সময়ে এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামাবে না। প্রশাসন এখন করােনা নিয়ে ব্যস্ত।

এ বিষয়ে কথা হয় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের সাথে। তিনি জানান, করোনাকালে একদল সুযোগ সন্ধানী, কুচক্রী মহল যারা এতদিন পর্যন্ত মেয়র থাকাকালীন সময়ে পারে নাই তারা এখন হয়তাে কেউ কেউ মনে করছে। যেহেতু নির্বাচনে মনোনয়ন দিয়েছেন দলের পক্ষ থেকে আরেকজনকে, যেহেতু মেয়রের দায়িত্ব মেয়াদ শেষে পালন করতে পারে না, তাই এটাই বোধহয় সুবর্ণ সুযোগ বিলবোর্ড ব্যবসার। এটা তাদের ভুল ধারণা। আমি মেয়র থাকি, না থাকি আর কখনাে এই নগরে আর কেউ বিলবোর্ড উঠাতে পারবে না। মোটকথা আমি যদি বেঁচে থাকি এই শহরে আর বিলবোর্ড উঠবে না। এমনকি নতুন মেয়র বিলবোর্ড উঠাতে পারবে না।

প্রয়োজনে জনগণকে সাথে নিয়ে চরম গণআন্দোলন গড়ে তুলবো। যোগ করলেন মেয়র নাছির। আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বিলবোর্ড ব্যবসায়ী হলো একটা অশুভ শক্তি। এই অশুভ শক্তি রাজনীতি করে না, রাজনীতির আবরণে তারা হীনস্বার্থ চরিতার্থ করে। আমি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সাথে কথা বলেছি ইতোমধ্যে। যে কয়টা বিলবোর্ড লাগানো হয়েছে নগরীতে, শিগগিরই এসব বিলবোর্ড উচ্ছেদে নামছে ম্যাজিস্ট্রেট।