মোরেলগঞ্জ অঞ্চলিক মহাসড়কের হেরিংবোন, একদিকে কাজ চলছে অন্যদিকে ভেঙে যাচ্ছে

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: শরণখোলা-মোরেলগঞ্জের অঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে হেরিংবোনের কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সড়কের একদিকে যেমন নির্মান কাজ চলছে অন্যদিকে তা ভেঙে যাচ্ছে। নাম মাত্র বালু দেয়া আর কোন প্রকার কম্পেকশন ছাড়াই চলছে সড়কের পার্শ্ব প্রসস্তকরন হেরিংবোনের কাজ।

সড়ক বিভাগের অবহেলায় বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কে এভাবেই কাজ করছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। জানা গেছে, বাগেরহাট সড়ক বিভাগ গত জানুয়ারী মাসে সাইনবোর্ড- শরণখোলা-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের আমড়াগাছিয়া কাঠেরপুল থেকে রায়েন্দা বাস স্টান্ড পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক প্রসস্ত করনের দরপত্র আহবান করে। সড়কের দুই পাশে তিন ফুট করে পাঁচ কিলোমিটার পার্শ্ব প্রসস্তকরনের জন্য হেরিংবোনের প্রাক্কলন করা হয়।

যা বাগেরহাটের মোজাহার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ওই কাজ নিয়ে শুরু থেকেইে অনিয়মের আশ্রয় নেয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ফেলে রেখে এখন জুন মাসে বিল উত্তোলনের জন্য তাড়াহুড়া করে যেনতেন ভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নির্মান কাজে মাত্র আড়াই থেকে তিন ইঞ্চি বালু দেয়া হচ্ছে। কোন প্রকার কম্পেকশন ছাড়াই ইট বিছানোর কারনে গাড়ীর চাকা ওঠার সাথে সাথে তা দেবে যাচ্ছে।

এছাড়া পাশে কোন মাটি না দেয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ইতোমধ্যে ভেঙে পড়ছে। এভাবে একদিকে কাজ চলছে আবার অন্যদিকে তা ভেঙে পড়ছে। এসময় ধানসাগর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন ও তাফালবাড়ি স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, নুন্যতম বালু না দিয়ে এতো খারাপভাবে কাজ করছে তা বলে বুঝানো যাবে না। কাজ শেষ করার আগেই তা ভেঙ্গে পড়ছে। এই কাজের নামে সরকারি অর্থ লোপাট ছাড়া আর কিছুই না বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এই ঠিকাদার শরণখোলায় যতগুলি কাজ করেছে তা সবই নিম্নমানের। যার জন্য এখনো মানুষের দুভোর্গ পোহাতে হয়। ধানসাগর ইউপি চেয়ারম্যান মাঈনুল ইসলাম টিপু, আমড়াগাছিয়া এলাকার মুক্তিযোদ্ধা অজিত কীর্তনিয়া, মনিন্দ্রনাথ হালদার বলেন, দীর্ঘদিন কাজ ফেলে রাখার পর জুন মাসে বিল তুলে নেয়ার জন্য এখন যেনতেন ভাবে কাজ শেষ করছেন। এর চেয়ে কাজ না করা ভাল ছিল।

তারা এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাগেরহাট সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওই কাজের তদারকি কর্মকর্তা মোঃ রিপন মিয়া বলেন, তার যোগদানের আগে ওই কাজের প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রাক্কলনে মাত্র তিন ইঞ্চি বালু ধরায় কাজটি ঠিকমতো হচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগের কারনে বিষয়টি নিয়ে আমরাও বিব্রত। তবে, যেসব স্থানে দেবে বা ভেঙে গেছে তা ঠিক করিয়ে দেয়া হবে। বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি আমিও দেখে এসেছি।

কম্পেকশনের পরে মুলতঃ তিন ইঞ্চি বালু থাকার কথা। আসলে বৃষ্টির কারনে নির্মান করা সড়ক দেবে যাচ্ছে। তবে সব কাজ ঠিক করে না দেয়া পর্যন্ত ঠিকাদারকে বিল দেয়া হবে না। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজের মালিক মশিউর রহমান সেন্টু বলেন, বৃষ্টির কারনে নির্মানাধীন সড়কের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে তা ঠিক করে দেয়া হবে।