মোবাইল ফোন চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তান খুন, আদালতে স্বীকারোক্তি

 মোহাম্মদ আদনান মামুন, শ্রীপুর (গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বুধবার রাতে জৈনাবাজার আবদার এলাকায় মোবাইল চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ে যাওয়ায় ঘরের ভেতরে মা ও তিন সন্তানকে গলাকেটে হত্যার কথা আদালতে স্বীকরোক্তি দিয়েছে গ্রেপ্তার মো. পারভেজ (২০)। গ্রেপ্তার পারভেজ, স্থানীয় আবদার গ্রামের কাজিম উদ্দিনের ছেলে। সোমবার বিকেলে পারভেজ গাজীপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. শরীফুল ইসলামের কাছে ১৬৪ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা আদালতের ইন্সপেক্টর মীর রকিবুল হক।

পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান জানান, রোববার মধ্যরাতে আবদার এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে মা-সন্তানদের খুনের কথা স্বীকার করলে আদালতে ১৬৪ধারায় তার জবানবন্দি নেয়া হয়। ২মাস আগেও পারভেজ নুরাকে উত্যক্ত করতে গিয়ে তাদের ঘরের খাটের নিচ থেকে ধরা পড়ে। পরে ক্ষমা চেয়ে ছাড়া পায়। বুধবার মধ্যরাতে মোবাইল চুরি করতে গিয়ে চিনে ফেলায় প্রথমে বাটি দিয়ে মাকে (গৃহবুধ) এবং পরে ঘুম থেকে জেগে উঠলে একে একে ঘরের থাকা তিন সন্তানকে মাথা-শরীরে কুপিয়ে জখম করে রশিতে দিয়ে বেঁধে মা-মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।

পরে ধারালো চাকু দিয়ে তাদের গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে এবং কাঙ্খিত অপো ও ভিভো কোম্পনীর দুইটি মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যায়। পারভেজ ২০১৮সালের ফেব্রুয়ারিতে একই এলাকার বসবাসরত ৭বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় গ্রেপ্তারের পর ৯মাসের জেল খেটে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে আছে। সোমবার জবানবন্দি শেষে আদালতের নির্দেশে আবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। রোববার রাতে গ্রেপ্তারের পর পারভেজের দেয়া তথ্যমতে তার ঘর থেকে নিহতদের রক্তমাখা কাপড় ও মাটির নিচে চাপা দেয়া অবস্থায় লুন্ঠিত দুইটি মোবাইল ফোন এবং একটি পায়জামার ভেতরে রাখা স্বর্ণের তিনটি গলার চেইন, কানের দুল, আংটি ও নাক ফুল উদ্ধার করা হয়েছে।

পারভেজের নামে শ্রীপুর থানায় আগেও খুন ও ধর্ষণের মামলা রয়েছে। শ্রীপুর থানার ওসি মো. লিয়াকত আলী জানান, গত বুধবার রাতে আবদার এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন মালয়েশিয়া প্রবাসী রেজওয়ান হোসেন কাজলের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এ ব্যাপারে পরদিন কাজলের বাবা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা খুনীদের উল্লেখ করে মামলা করেন এবং পিবিআই, র‌্যাবসহ পুলিশের তদন্তকারী একাধিক টিম জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করে। খুনের তিনদিন পরই গ্রেপ্তার হলো পারভেজ।