মোংলা বন্দরে তিন দিনের সফরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ কুলিশ ও সুমেদা

সৈকত মন্ডলঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে তিন দিনের সফরে আসে ভারতীয় নৌবাহিনীর দুটি যুদ্ধজাহাজ।

বাংলাদেশের বাগেরহাট মোংলা বন্দরে আজ সাড়ে ১০ টায় পৌঁছেছে তিন দিনের সফরে।

প্রথমে বন্দরের ৯নং জেটিতে এসে নোঙর করে যুদ্ধজাহাজ আইএনএস কুলিশ ও আইএনএস সুমেদা।

এ সময় বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ দুটিকে অভিবাদন জানায়।

বানৌজা মোংলা নৌঘাঁটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এম মোশারেফ হোসেন, এন, পিএসসি, বিএন ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ দুটির অধিনায়ককে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়।

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনের প্রতিনিধিসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সফরকালে ভারতীয় নৌবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা কমোন্ডার মাহাদিভু গোভারধান রাজু ও জাহাজ দুটির অধিনায়ক বৃন্দ টুঙ্গিপাড়াস্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন এর সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

পাশাপাশি তারা কমান্ডার খুলনা নেভাল এরিয়া এবং কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্ট এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ নৌ কমান্ডোগণদের সাথে মতবিনিময় করবেন।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ হতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বানৌজা পদ্মা ও বানৌজা পলাশ জাহাজে ব্যবহৃত ৪১/৬০ মিঃ মিঃ গান এ্যকুয়াসটিক এম কে- ০৭ মাইন শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে প্রদান করবে।

এসব গান ও মাইন যুদ্ধকালীন মোংলা ও পশুর নদীতে পাকিস্তানী বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমন পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছিল।

সামরিক জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ হতে এসব সরঞ্জামাদি প্রদান করা হবে।

এর আগে সফরকারী জাহাজ দুটি বাংলাদেশী জলসীমায় এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ বানৌজা গৌমতী তাদেরকে স্বাগত জানায়।

১৮ জন কর্মকর্তা ও ১৬০ জন নাবিকসহ ‘আইএনএস কুলিশ’ জাহাজের নেতৃত্বে আছেন কমান্ডার সঞ্জীব অগ্নিহোত্রি ।

২০ জন কর্মকর্তা ও ১৬০ জন নাবিকসহ ‘আইএনএস সুমেদা’ জাহাজের নেতৃত্বে আছেন কমান্ডার গৌরব দুর্গাপাল।

সফরের অংশ হিসেবে জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকগণ নৌবাহিনীর জাহাজ/ ঘাঁটিসহ মোংলা খুলনার দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করবেন।

জাহাজ দুটির এই শুভেচ্ছা সফর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার পারস্পরিক বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন দুই দেশের নৌবাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, তিন দিনের শুভেচ্ছা সফর শেষে জাহাজ দুইটি চলতি বছরের ১০ মার্চ বাংলাদেশ ত্যাগ করবে বলেও জানায় মোংলা নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা।