মেঘ পাহাড়ের রাজ্য, সাজেক !

সাজেক, যেখানে মেঘের গায়ে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায়, কিংবা বলতে পারেন পাহাড়ের গায়ে মোড়ানো মেঘের চাদর। সাজেক আসলে মেঘ পাহাড়ের রাজ্য।

এক সময় মেঘ দেখতে মানুষ দার্জিলিং যেত, শিলং যেত। এখন এই চির সবুজের বাংলাদেশেই এমন জায়গা আছে যেখানে পাহাড়ের চুড়াঁয় দাড়িয়ে মেঘের সমুদ্রে অবগাহন করতে পারেন।

সাজেক ভ্যালী কতদূর ?

সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে । রাঙামাটি থেকে নৌপথে কাপ্তাই হয়ে এসে অনেক পথ হেঁটে সাজেক আসা যায় । খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার । আর দীঘিনালা থেকে ৪৯ কিলোমিটার । বাঘাইহাট থেকে ৩৪ কিলোমিটার ।

রাতের সাজেক

সাজেকে শুধু মেঘ নয়, অনেক দর্শনীয় স্থান খুজে পাওয়া যায় যা পৃথিবীর সকল দর্শনার্থীদের মন ও প্রান কাড়ে।

কমলক ঝর্না

সাজেকের রুইলুই পাড়া থেকে মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার ব্যবধানে ঘুরে আসতে পারেন সুন্দর এই কমলক ঝর্না থেকে। এই ঝর্নাটি পিদাম তৈসা ঝর্না বা সিকাম তৈসা ঝর্না নামে পরিচিত। কমলক ঝর্ণা যা দেখে মনে হবে কোনো এক সবুজ ছায়াতল থেকে শুভ্র পরী উপর থেকে নীচে বেয়ে নামছে!

শিব মন্দির

সাজেকের প্রবেশ মুখের হাতের ডান পাশে অবস্থিত সুপ্রাচীন এই শিব মন্দির। মূলত মন্দিরটি সকলে রুইলুই পাড়া শিব মন্দির নাম চিনে থাকে। এখানে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবসময় হৈহুল্লোড় ও হট্টগোল লেগেই থাকে।

পশ্চিমের গ্রাম!

প্রায় ঘণ্টা খানেক হাঁটার পর ভারতের লুসাই পাহাড়ের উপর একটা গ্রাম । গ্রামের নাম কংলাক। কংলাক পাড়া থেকে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায়।

রিসাং ঝর্না

প্রাকৃতিক এই ঝর্ণাটি প্রায় ৩০ মিটার উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে নিচে। পুরোটাই পাথুরে পরিবেশ

কিভাবে যাবেন

ঢাকা টু খাগড়াছড়িঃ বাসে করে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে হবে।নন-এসি বাস ৫২০ টাকা (শ্যামলী, শান্তি পরিবহন, ঈগল, ইকোনো, এস আলম ইত্যাদি),এসি বাস ৮০০ টাকা (একমাত্র সেন্টমার্টিন পরিবহন)। ঢাকা থেকে বাস ছাড়ে সকালে ও রাতে (১১.০০ টায়) এবং খাগড়াছড়ি থেকে বাস ছাড়ে সকালে ও রাতে (৯.০০ টায়)। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগবে রাতে ৭/৮ ঘন্টা এবং দিনে ৮/১০ ঘন্টা।

খাগড়াছড়ি টু সাজেকঃ খাগড়াছড়ি শহড়ের শাপলা মোড় থেকে চান্দের গাড়ী/ সিএনজি রিজার্ভ করে সাজেক যাওয়া যাবে। এছাড়াও নিজস্ব মাইক্রো বা কার নিয়েও যাওয়া যাবে। সময় লাগবে সবমিলিয়ে ৩ ঘন্টা। চান্দের গাড়ী ভাড়া ৫০০০/৬০০০ টাকা। যাওয়ার পথের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে করতে চলে যাবেন সাজেক ।

যারা সাজেকে রাতে থাকবেনঃ

সাজেকে রাতে থাকতে হলে ঢাকা থেকে থাকার জায়গা বুকিং দিলে ভাল রুম পেতে পারেন। থাকার জন্য বেশকিছু ভাল রিসোর্ট বা জায়গা আছে –

১) সাজেক রিসোর্ট (রুইলুই পাড়া): মোট ৪ টি রুম । ভাড়া ১০০০০-১৫০০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।

২) রুনময় রিসোর্ট (সাজেক ভ্যালী): রুম সংখ্যা খুবই কম। ভাড়া ৪৪৫০-৪৯৫০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।

৩) আলো রিসোর্টঃ  মোট ৬ টি রুম। ভাড়া ৭০০-১০০০ টাকা প্রতি রাতের জন্য।

৪) রুইলুই পাড়া ক্লাব হাউসঃ  রুইলুই পাড়াতে যে কোন কারবারীর ঘরে জনপ্রতি ১০০ টাকা দিয়ে থাকা যাবে (যদি ফাকা থাকে)। ১৫ জন থাকতে পারবেন।

রিসোর্টে খাবার ব্যবস্থা আছে তবে যারা দিনে গিয়ে দিনে চলে আসবেন তারা বাইরে ১৫০-৫০০ টাকা দিয়ে দুপুরের খাবার খেতে পারবেন।

সাজেকের খাবারঃ

সাজেকে খাবার দাম অত্যাধিক বেশি। আগে থেকে খাবারের বুকিং না দিলে খাবার পাবেন না। তাই অবশ্যই খাবার বুকিং দিন। খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবার পাওয়া যায় যার মধ্যে বিভিন্ন শুটকি বাঁশের ডাল অন্যতম। এছাড়া হাসের মাংস , বাশের চা এবং বাশের মধ্যে স্পেশাল পদ্ধতিতে মুরগী রান্না (ব্যাম্বু চিকেন) খাবার ভারী মুখরোচক ।

কিছু জিনিস অবশ্যই করনীয়ঃ

  • সাজেকের রাস্তা অনেক উঁচু-নিচু,বাঁকা বাক রয়েছে। শক্তিশালী ইঞ্জিনওয়ালা গাড়ি এসব রাস্তায় চলাচলের জন্য আদর্শ। তাই মোটরসাইকেল বা সিএনজি না যাওয়াই শ্রেয়।
  • সাজেক গিয়ে যদি রাতে থাকার প্ল্যান থাকে তবে অবশ্যই থাকার জন্য কটেজ,রিসোর্ট কিংবা মোটেল আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখবেন। কংলাক পাড়ায়ও অনেক আদিবাসী তাদের ঘরেও থাকতে দেয় টাকার বিনিময়ে। আমরা নিজেরাও থেকেছি ২ রুমে ১৫ জন!
  • স্থানীয় হোটেলগুলোতে খেতে পারবেন। তবে যা খাবেন তা আগে থেকে অর্ডার করতে হবে।
  • সাজেকে পানির খুবই অভাব। আদিবাসীরা অনেক নিচ থেকে নিজেদের ব্যবহারের জন্য কষ্ট করে পানি তোলে ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে। তাই অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমান খাবার পানি সাথে করে নিয়ে যাবেন।
  • সাজেকে সোলার পাওয়ারে বাল্ব জ্বালায় । তাই অবশ্যই সাথে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যাবেন মোবাইল ফোন চার্জ দেয়ার জন্য।
  • গ্রিপ করে এমন জুতা / স্যান্ডেল নিয়ে যাবেন। পাহাড়ে উঠার জন্য যেটা প্রয়োজন।
  • রাতে পাহাড়ে অত্যাধিক ঠান্ডা পরে। তাই চাদর বা পাতলা কাথা নিয়ে যেতে পারেন। ফুলহাতা শার্ট নিলেও হবে।
  • প্রয়োজনীয় ঔষধ-পত্র সাথে নিতে ভুলবেন না।
##সাজেকে রবি সিম ছাড়া অন্য কোন সিমে নেটওয়ার্ক পায় না। তাই একটি রবি সিম নিজের সংগ্রহে রাখতে পারেন ।