মেঘের ছোঁয়া সাজেক চূড়ায়

ছবি সংগৃহীত : নীলা নুর

চল না ঘুরে আসি,

মেঘ পাহাড়ের পথে তে,

যেখানে মেঘেদের দমকা মিছিলে,

ডানা মেলে উড়ব সকলে।

চল না ঘুরে আসি,

গগন ছোঁয়া পাহাড় চূড়ায়।

যেখানে দৃষ্টি দিলে মনটা জুড়ায়।

হৃদয় যে প্রশান্তি কুলায়।

যার তুলনা নাই রে,

যার তুলনা নাই।

সে যেন মেঘ কুয়াশার মায়াবী “সাজেক”।।

উন্মাদনার শুরুটা এভাবেই, সেখান থেকেই সাজেক ভ্রমণ পূর্ববর্তী উত্তেজনার সূচনা। অপরুপ মায়াবী সাজেকের সৌন্দর্য নিয়ে কতই না আগ্রহ, রুটিন আড্ডা-মিটিং, ভ্রমনের পূর্ব রাতে চূড়ান্ত সাক্ষাতকার; যেন দারুচিনি দ্বীপ সিনেমার দৃশ্যমান প্রতিচ্ছায়া লক্ষণীয় আমাদের সপ্নডানার সকল ক্লান্তিবিহিন স্বপ্নদ্রষ্টা ডানা মেলা পাখিদের। যে পাখিরা উদগ্রীব হয়ে মুখিয়ে ছিল প্রতীক্ষার অপরুপা সাজেকে মেঘের সংস্পর্শে ডানা ছেড়ে উড়াল দেবার অপেক্ষায়।

প্রায় আঠারোশ’ ফুট উঁচু পাহাড়ের চূড়া, যেন প্রকৃতির মিনার। এই চূড়ার চারপাশে ঘন সবুজ অরণ্যের ঢেউ খেলানো পাহাড়ের সারি। সেই সারি সারি পাহাড়ের ওপর কুয়াশার মতো উড়ছে ধূসর এবং দুধসাদা মেঘ। আর সেই মেঘের গা ছুঁয়ে আসা বাতাস শীতল পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে গায়ে।

সবসময় সাজেক আচ্ছাদিত থাকে শুভ্র কুয়াশার চাঁদরে। তাই সাজেক কে
মেঘ কন্যা বা মেঘের রাজ্য বললে ভুল হবে না কারো। সবার দেখা one of the best place in Bangladesh সাড়ি সাড়ি মেঘের খেলা অপুরুপ প্রাকিতিক সৌন্দর্যে ঘেরা সাজেক ভ্যালি। চারিদিকে সারি সারি পাহাড় আর মাঝে মাঝে সাদা তুলোর মত মেঘমালা। যেন সবুজের রাজ্যে সাদা মেঘের হ্রদের পাড়ে দাড়িয়ে আছেন আপনি। নিশ্চয়ই ভাবছেন স্বপ্নের মত সুন্দর এরকম দৃশ্য বাস্তবে আদৌ কি দেখা যাবে? আর দেখা গেলেও হয়ত যেতে হবে বহুদূরে কোন অজানা দেশে। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হল আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশেই রয়েছে এ রকম এক মেঘপুরী যার নাম সাজেক ভ্যালী।

শীতের  শুরুতেই অপরূপ সাজে সেজেছে প্রকৃতির রাণী রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালি। শীতের তীব্রতা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তার সাথে কুয়াশা। পাহাড়ে চূড়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। সাদা মেঘের আড়ালে সাজেকের পাহাড়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত যেন এক স্বর্গীয় রূপ।

মেঘের ভেলা দেখতে আসা পর্যটকের গান বলে দিচ্ছে প্রকৃতির রাণী সাজেক মানুষকে কতটা আবেগ-আপ্লুত করতে পারে। তা গুনগুন করে হোক কিংবা প্রাণ খুলে গলা ছেড়ে হোক। সাজেক এখন এতটা অপরূপ রূপ নিয়েছে। খুব ভোরে যখন পূর্ব আকাশে সূর্য ওঠে, তখন মেঘের ভেলা একেবারেই নিচে নেমে আসে। আর পাহাড়ের চূড়ায় ভেসে বেড়ানো মেঘকে যে কেউ সাগর ভেবে ভুল করতে বাধ্য। দুপুরের আগে সূর্য মধ্য আকাশে না যাওয়া পর্যন্ত সাজেকের যে কোনো স্থান থেকে উপভোগ করা যাবে নয়নাভিরাম দৃশ্য।

শুধু সকালের সূর্যোদয় কেন, বিকেলে যখন পশ্চিম আকাশে অস্তগামী সূর্য লাল গোলাকৃতি রূপ নয়, তার দৃশ্যও কম কিসের। সাগরের তীরে গেলেই সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত দেখা যায়, তা কিন্তু নয়। সাজেকের যে কোনো পাহাড় থেকেও একই দৃশ্য দেখা সম্ভব। আর এ দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় করছে সাজেক ভ্যালিতে। সেই ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যটকরা ঘুরে বেড়াচ্ছে সাজেক ভ্যালির এ পাহাড় থেকে ওই পাহাড়ে।

সেখানে একটু উঁচু টিলায় উঠলেই উপভোগ করতে পারবেন সূর্যাস্ত। সাজেকের সন্ধ্যা নামে অপরূপ এক সৌন্দর্য নিয়ে। দেখবেন মেঘমুক্ত নীলাকাশ একটু একটু করে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে আর মিটিমিটি করে জ্বলে উঠছে একটি দুটি করে তারা। দেখবেন অল্পকিছুক্ষণের মধ্যে একটি দুটি থেকে সহস্র তারা আপনার চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে উঠবে। হয়ত আপনি এরকম তারা ভরা আকাশ জীবনে কখনও দেখেন নি।

সন্ধ্যার তারাভরা আকাশ দেখতে দেখতে মৃদুমন্দ হাওয়ায় চায়ের কাপে চুমুক দিলে আপনার হৃদয়ে যে অনুভূতি আসবে সেটাই হতে পারে আপনার সাজেক ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ। যারা তারা দেখতে ভালবাসেন তাদের জন্য সাজেক খুবই আদর্শ একটি জায়গা। এমনকি যারা এখনও মিল্কিওয়ে বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ দেখেননি তারাও সাজেক ভ্যালিতে এসে জীবনে প্রথমবারের মত দেখা পেতে পারেন মহাবিশ্বে আমাদের আশ্রয়স্থল আকাশগঙ্গার। আর এর জন্যই সাজেক হলো অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি