মেঘনায় জাটকা ধরতে ধরতে বাধা দেয়ায় সাংবাদিকদের লাঞ্চিত করছেন জেলেরা

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মেঘনায় নির্বিচারে জাটকা ধরছেন জেলেরা, তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে লাঞ্চিত হচ্ছেন সাংবাদিক!

নিষেধাজ্ঞা সময়ে লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় নির্বিচারে জাটকা নিধনের মহৌৎসবে মেতেছেন জেলেরা। জাটকা ধরাকে উৎসাহিত করার পিছনে অর্ধশত আড়ত ও নৌ-পুলিশসহ মৎস্য বিভাগের দায়িত্ব অবহেলার উদাসীনতায় দায়ী করেছেন জেলেসহ মৎস্য ব্যবসায়ীরা।

আর জেলা মৎস কর্মকর্তা বলছেন; প্রয়োজনে র‍্যাবও আছে, অভিযান চলছে দিন রাত। এছাড়া জেলেদের পূর্ণবাসনের জন্য অগ্রাধিকার তালিকায় সময় লাগতে পারে। ১৯ দিনে ১২৬ টি অভিযান, মোবাইল কোট ১৭ টি, জাল জব্দ ১৪ লাখ মিটার, মামলা হয় ৪৩ টি, জরিমানা ৩ লাখ ৮০ হাজার, ৩৫ জেলা, ১টি রেগুলার মামলা হয়েছে।

এছাড়া ওই চরবংশির পূরান বেড়ি এলাকায় জাটকা ধরার ও বিক্রয়ের সংবাদ সংগ্রহ কালে একাধিক সাংবাদিককে নাজেহাল করেন জাটকা নিধনকারির লোকজন। সাংবাদিকদের ক্যামরা চিনিয়ে নেয়া এবং পুলিশ ডেকে চাঁদাবাজির মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে অনেক সংবাদ কর্মীদের।

মার্চ এপ্রিল ২মাস নদীতে সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ সময়ে জাটকা সংরক্ষন ও ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২মাস সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

আর নিষেধাজ্ঞা সময়ের দুই সপ্তাহ না যেতেই প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনাল এলাকার ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষিত এলাকায় মেঘনায় নির্বিচারে চলছে জাটকা ইলিশ নিধন।

জেলেদের পুঁজি করে এ জেলার বিভিন্নস্থানের মত রায়পুর পুরানবেড়ি মাথা নদীর পাড়ে আড়ৎখুলে বসেছেন দাদনদাতা কয়েকজন মৎস্য আড়তদার। আর পুরানবেড়ি মাথা নদীর পাড়ে আড়ৎখুলে প্রকাশে কেনা বেচা এ কাজে বাধা দেওয়া এমনকি কোন সাংবাদিক ভিডিও চিত্র ধারন করলে সে কারনে হতে হয় নাজেহাল।

এছাড়া ৩ মার্চ রাতে এই পুরান বেড়ি মাথা মাছঘাটে কোস্টগার্ডের অভিযান কালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। হামলায় কোস্টগার্ডের নৌকার মাঝিসহ ৫ জন আহত হয়।
কোস্টগার্ডের অভিযান কালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় জরিত এমন অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

ক্রেতারা বলছেন,মৎস্য বিভাগসহ পুলিশ ম্যানেজ রয়েছে আড়ৎগুলোতে। আর জেলেদের ক্ষোভ নিষেধাজ্ঞা সময়ের দুই সপ্তাহের খাদ্য সহায়তা না পাওয়ার।

রায়পুর পুরান বেড়িঁর মাথায় নদীর পাড়ে আড়তদারদের দিকে ইঙ্গিত করে স্হানীয়রা বলছেন নদীর পাড়ে জাটকা ইলিশ না বিক্রি হলে কেউ কিনতো না। নিষেধাঙ্গা কি শুধু জেলেদের জন্য আড়ৎদাদের জন্য নেই। আড়ৎদারদের অন্যায় কি কারো চোঁখে পড়ে না, ক্ষোভের সাথে একাধিক লোক এসব কথা জানিয়েছেন।

জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানায়,জেলায় প্রায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছে। এদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৪ শত ৭২ জন জেলে নিবন্ধিত রয়েছে। দুই মাসের জন্য প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি হারে খাদ্য সরবরাহ করা হবে।

এদের মধ্যে ৪৩ হাজার ৪ শত ৭২ জন জেলে নিবন্ধিত রয়েছে। দুই মাসের জন্য প্রতি জেলেকে ৪০ কেজি হারে খাদ্য সরবরাহ করা হবে। ইতিমধ্যে জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা ২৪ হাজার তিন শত ৪৪ পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তা সরকারি ভাবে পাওয়ার পর দেওয়া শুরু হয়েছে রায়পুরে। পর্যায় ক্রমে দেওয়া হবে বাকী উপজেলাগুলোতেও।

লক্ষ্মীপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা,মোহাম্মদ বেলাল হোসেন, তিনি জানান,আইন অমান্য কারী জেলেদের ধরতে অভিযান চলমান রয়েছে।দুই একটি বিচ্ছিন ঘটনাও ঘটছে। এ পর্যন্ত ৫০ টি অভিযানে এ পর্যন্ত ১১ দিনে ৬৬ জনকে আটক করা হয়।