মুজিববর্ষ উদযাপনে বিএনপি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়: ওবায়দুল কাদের

মুজিববর্ষ উদযাপন কেন্দ্র করে বিএনপি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একইসঙ্গে তিনি এও উল্লেখ করেছেন, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায় বলেই তারা এ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অংশগ্রহণ নিয়ে বিরোধিতা করছে।

বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ অভিযোগ করেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা মহানগনর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের বলেন, নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতা করা তাদের মূল উপলক্ষ নয়, তাদের মূল লক্ষ্য মুজিববর্ষ উদযাপনের বিরোধিতা করা। মুজিববর্ষ উদযাপন কেন্দ্র করে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। যদিও মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে সরকার কোনো প্রতিবন্ধকতা দেখছে না। সব প্রস্তুতি যথাযথভাবে এগিয়ে চলছে। কিছু লোক আছে বিশেষ করে বিএনপি, তারা সবকিছুতেই বিরোধিতার জন্য বিরোধীতা করে। বিএনপি শুধু ইস্যু খুঁজে।

তিনি বলেন, তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড। কিন্তু তারা বঙ্গবন্ধুর প্রাসঙ্গিকতা ও ঔজ্জ্বল্য ঢেকে দিতে পারেনি। তাই এখন মুজিববর্ষ উদযাপনের বিরোধিতা করছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, পিরোজপুরের আদালতের ঘটনা, এটা আইন বিভাগ ও আইন মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী কথা বলেছেন। আইন মন্ত্রণালয় ও বিচার বিভাগের বিষয় নিয়ে আমার কথা বলা উচিত হবে না। আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করি। এটাই আমাদের অবস্থান। তবে এই ঘটনার সঙ্গে যদি দলীয় কোনো বিষয় থেকে থাকে, তাহলে সেটা আমরা খতিয়ে দেখছি।

গ্রেফতার যুব মহিলা লীগের বহিস্কৃত নেত্রী পাপিয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে কাদের বলেন, আমরা অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে দেখছি। দলীয় লোক হিসেবে দেখি না। দলের কোনো লোকের জন্য আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে যাাই না। অপরাধীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস আমাদের আছে। ব্যবস্থা নিয়েছি, অনেকে শাস্তি পেয়েছে, অনেকে শাস্তি পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর অবস্থানে আছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল প্রমুখ।