মিয়ানমারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের আদালতে মামলা করেছে গাম্বিয়া

রোহিঙ্গা মুসুলমানদের ওপর দমন-পীড়নের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মিয়ানমার। সোমবার ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে মামলা করেছে ওআইসিভুক্ত দেশ গাম্বিয়া।
মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনতে গাম্বিয়া সরাসরি সহায়তা করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডবিøউ)।
আর এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা নিপীড়নের জন্য সমালোচনার মুখে থাকা মিয়ানমার প্রথম আন্তর্জাতিক কোনো আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রাখাইন রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার কথা বলে অভিযোগ করে ৪৬ পৃষ্ঠার অভিযোগ পত্রে।
অবশ্য রোহিঙ্গা নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও (আইসিসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই অভিযোগ ছিলো। এর মধ্যেই জাতিসংঘের আদালতে মামলা করল আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ১৯৮৪ সালে গণহত্যা প্রতিরোধ ও এর শাস্তি বিধানে স্বাক্ষরিত কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। ১৯৫৬ সালে ওই ‘জেনোসাইড কনভেনশনে’ সই করে মিয়ানমার।
গত মার্চে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করেছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। আবুধাবিতে ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ৪৬তম বৈঠকের শেষদিনে প্রস্তাবটি অনুমোদন লাভ করে। বৈঠকে আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়। বিশেষ করে গণহত্যা সংক্রান্ত কনভেনশন এবং অপরাপর কনভেনশন বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
২০১৬ এবং ২০১৭ মিয়ানমারের সীমান্তচৌকিতে জঙ্গি হামলা হলে দুই দফায় ২০জন সেনা সদস্য নিহতের ঘটনার জের ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায় সেনারা। তাদের হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, নারীদের ধর্ষণসহ নানা ধরনের নিষ্ঠুর নিপীড়ন চালায়। জীবন বাঁচাতে দলে দলে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে থাকে রোহিঙ্গারা । বর্তমানে সব মিলিয়ে বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখের বেশি।