মিয়াজউদ্দিন খানের মৃত্যু থেকে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের শিক্ষার অনেক কিছু রয়েছে

মোঃ ইকবাল হোসেন, কালকিনি প্রতিনিধি:দারীপুর জেলায় ক্ষমতার মসনদে বসে আছেন যারা তাদের মধ্যে মরহুম শ্রদ্ধেয় মিয়াজউদ্দিন খানও ছিলেন। তিনি যে শুধু নিজে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তা নয় বরং তার হাত ধরে অনেকেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছেন।

তিনি মাদারীপুর জেলা আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ার সুবাদে মাদারীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও পরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় গত ২৩জুলাই রাতে ইন্তেকাল করেন। মাদারীপুর জেলায় এতবড় ক্ষমতায় থেকে তার মৃত্যু কিন্তু বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি বড় শিক্ষার বিষয়। কেননা তার মৃত্যুর খবর যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পরে তখন মাঠে ঘাটে অফিস আদালত থেকে শুরু করে চায়ের দোকানে পর্যন্ত সাধারন মানুষের মধ্যে নানান প্রশ্ন আলোচনা সমালোচনা অর্থাৎ জীবীত অবস্থায় তার কর্ম জীবনের চুলচেরা বিশ্লেষণ হয়।

তার মৃত্যুর পর সাধারন মানুষের মধ্যে যে প্রশ্নগুলো ছিল তা নিন্মে তুলে ধরছি একারণে যাতে বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের ঘুমভাঙে। যাতে তারা নিজেদের সুধরে জনকল্যাণে নিজের কর্ম সময় ব্যায় করে। প্রশ্নগুলো হলো- ১। তিনি কি স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠার নামে কারো জায়গা জমি দখল করেছেন কিনা? ২। তিনি ক্ষমতার দাপটে কোন অসহায় মানুষকে চাকুরিচ্যুৎ করেছেন কিনা? ৩। তিনি ক্ষমতার চেয়ারে বসে ক্ষমতার দাপটে মানুষদের ধরে এনে নিজের বাহিনী দিয়ে মারিয়েছিলেন কিনা? ৪। তিনি ক্ষমতার দাপটে কারো ঘর বাড়ি ভেঙ্গে দিয়েছেন কিনা? ৫।

তিনি প্রতিহিংসার বসে নিজ দলের কোন কর্মীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার লক্ষে তাকে দলীয় পদ পজিশন থেকে বঞ্চিত করেছেন কিনা? ৬। তিনি সরকারী বরাদ্দ নিজের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত অনুদান হিসেবে চালিয়েছেন কিনা? ৭। তিনি সরকারী বরাদ্দ নিজ আত্মীয় ও একনিষ্ট কর্মীদের নামে বরাদ্দ দিয়ে তা গোপনে নিজে নিয়ে বাড়ি গাড়ির মালিক হয়েছেন কিনা? ৮। তিনি সাধারন মানুষদের গভীর নলকূপ( টিউবয়েল) দেয়ার নামে কর্মীদের দিয়ে টিউবয়েল প্রতি ২০/২৫হাজার টাকা করে নিয়েছিলেন কিনা? ৯। তিনি নিজ দল আওয়ামীলীগের কর্মীদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা এবং দলের মধ্যে নিজের স্বার্থে গ্রæপিং করে রেখে ছিলেন কিনা? ১০।

তিনি দলের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করেছিলেন কিনা? এমন শত প্রশ্নের উদয় হয়েছিল তার মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে। হয়তো তিনি এমন করেননি বলে তার মৃত্যুর পর টিভি এবং পত্রিকায় তার অপকর্ম নিয়ে হেডলাইন হয়নি। কিন্তু যারা এমন করছেন তারাকি ভেবে দেখেছেন তাদের মৃত্যুর পর বা তাদের ক্ষমতা না থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাধারন মানুষ কতটা ফুসে উঠতে পারে?। তাদের অপকর্ম নিয়ে টিভি আর পত্রিকার হেড লাইনের পর হেড লাইন হবে। ক্ষমতাসীন জনপ্রতিনিধিদের নাম ব্যবহার করে এবং তাদের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আজ যারা বাড়ি গাড়ির মালিক হচ্ছে এবং কারিকারি টাকার মালিক হচ্ছে তারা কি তখন পাশে থাকবে? বা থাকতে পারবে?।

কেননা সময় যেমন পরিবর্তনশীল তেমনি ক্ষমতাও পরিবর্তনশীল। ক্ষমতায় না থাকলেই বোঝা যায় সাধারন মানুষের ভালবাসার মানুষ ছিলেন না তিরস্কারের মানুষ ছিলেন। তাই শ্রদ্ধেয় মিয়াজউদ্দিন খানের ইন্তেকাল কিন্তু বুঝিয়ে দিয়েছে মৃত্যুর কাছে ক্ষমতা মূল্যহীন। তার মৃত্যু থেকে শিক্ষা নেবেন কি বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা। আজ মিয়াজউদ্দিন খান যাদের উপকার করেছিলেন তারাই কিন্তু তার জন্য চোখের জল ফেলছে। তার মহৎ কর্ম গুলোই তাকে মানুষের মধ্যে অমর করে রেখেছে আর রাখবে।

তাই যেহেতু ক্ষমতায় আছেন সেহেতু মানুষের ক্ষতি না ভেবে মানুষের উপকার করাই উত্তম নয়কি?। আপনি মরে গেলেও রাজনীতি থাকবে চলবে অথচ আপনি রাজনীতির বদৌলতে ক্ষমতা পেয়েছেন তা জন হয়রানির পথে ব্যবহার না করে জনকল্যাণে ব্যবহার করাই শ্রেয় নয় কি।