মিনি বন্দর’ হয়ে উঠবে ১৯ আইসিডি

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ করোনা সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে অনেক বড় একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা ১৯টি বেসরকারি আইসিডি গতকাল থেকেই এক একটি ‘মিনি বন্দর’ হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব আইসিডিতে এতদিন শুধুমাত্র ৩৮ ধরনের আমদানি পণ্য হ্যান্ডলিং করতে পারলেও গতকাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা সব ধরনের পণ্য হ্যান্ডলিং এর ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে।

তবে আইসিডিগুলো বিশেষ ক্যাটাগরির কিছু পণ্য হ্যান্ডলিং না করে অন্যান্য সব ধরনের পণ্য হ্যান্ডলিং করবে বলে জানিয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। সূত্র বলেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে বিরাজমান নাজুক অবস্থা উত্তরণে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। এই বৈঠকের ঘন্টা কয়েকের মধ্যেই চট্টগ্রাম অঞ্চলের ১৯টি বেসরকারি আইসিডিতে সব ধরনের পণ্য হ্যান্ডলিং করার অনুমোদন দেয়া হয়। এতদিন উক্ত আইসিডিতে চাল ডাল তুলাসহ ৩৮ ক্যাটাগরির পণ্যবাহী কন্টেনার হ্যান্ডলিং করা হতো। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী চলা সাধারণ ছুটিতে বন্দরের পরিস্থিতির ভয়াবহ রকমের অবনতি ঘটে।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে কন্টেনার খালাস তলানিতে ঠেকায় বন্দরের অভ্যন্তরে কন্টেনারের পরিমাণ ৫০ হাজার টিইইউএস-এ উন্নীত হয়। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে বিদেশ থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে আসা জাহাজ থেকে পণ্য খালাস প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। বিষয়টি নিয়ে বৈঠকের পর আইসিডি মালিকদের সংগঠন বিকডা থেকে জানানো হয়, তাদের অভ্যন্তরে সাড়ে আঠার হাজার টিইইউএস কন্টেনার রাখার জায়গা রয়েছে। কিন্তু খুবই সীমিত পরিমাণে আমদানি হয় এমন ছয় ক্যাটাগরির কন্টেনার বেসরকারি আইসিডিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়, এতে তেমন লাভ হয়নি। তাই গতকাল চট্টগ্রামের ১৯টি আইসিডিতে সব ধরনের পণ্য হ্যান্ডলিং এর সুযোগ দেয়া হয়। এনবিআর এর দ্বিতীয় সচিব (কাস্টমস নীতি) মোহাম্মদ মেহরাজ-উল-আলম সম্রাট স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। ফলে বন্দরের ইয়ার্ডে জমে থাকা পণ্যবাহী কন্টেনারগুলো আমদানিকারকরা ১৯টি আইসিডিতে স্থানান্তর করতে এবং সেখান থেকে ডেলিভারি নিতে পারবেন।

এ আদেশে পণ্য চালান স্থানান্তরে তিনটি শর্ত দেয়া হয়। শর্তগুলো হলো, বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আইসিডিতে স্থানান্তরকালে শতভাগ কন্টেনার অবশ্যই স্ক্যানিং করতে হবে। স্ক্যানিং রিপোর্ট যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। আইসিডিতে স্থানান্তরিত সকল কমার্শিয়াল পণ্য চালান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে হবে। এবিষয়ে বিকডার পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা ডেঞ্জারাস গুডস, এলসিএল কন্টেনার, ঢাকা আইসিডি ও পানগাঁও আইসিডিমুখী কন্টেনার, রেফার কন্টেনার নেবে না। গতকাল বিকডা নেতৃবৃন্দ বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

তবে গতকাল থেকেই স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে বিকডার সেক্রেটারি মোহাম্মদ রুহুল আমিন শিকদার দৈনিক জানান, আমাদের আইসিডিতে ৭৭ হাজার ৪০০ টিইইউএস কন্টেনার রাখার জায়গা রয়েছে। শুরুতে সাড়ে আঠার হাজার টিইইউএস বলা হলেও বর্তমানে আইসিডিগুলো রয়েছে সাড়ে একত্রিশ হাজার টিইইউএস কন্টেনার রাখার জায়গা রয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব সরকার পালন করেছে। এখন বন্দর ও আমাদেরকে মিলেই এ জট সামাল দিতে হবে। এক্ষেত্রে বন্দর ও কাস্টমসের অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে।