মিঠাপুকুরে রাস্তায় উপড়ে পড়ে আছে প্রায় ২শত বছরের পুরনো গাছ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আমিরুল কবির সুজন,মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধিঃ রংপুরের মিঠাপুকুরে প্রায় ২শত বছর বয়সী একটি পাইকড়ের গাছ উপড়ে পড়ার ৫দিন অতিবাহিত হলেও শুক্রবার পর্যন্ত গাছটি অপসারণ করা হয়নি। এ কারনে ওই এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পড়ে থাকা গাছটির জন্য সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ। গাছটি উপড়ে পড়ার সময় সেখানে অবস্থান করা মানুষ প্রানে বেঁচে গেলেও দুমড়ে মুচড়ে গেছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। দোকান বন্ধ থাকার ফলে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দোকান মালিকসহ কর্মচারীদের।

বাজার ইজারাদার ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুলাই সকালে উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের শালমারা-ভাংনী সংযোগ সড়কের পূর্বদিকে শালমারা বাজারে অবস্থিত বিশাল আকৃতির একটি পাইকড়ের গাছ উপড়ে পড়ে। শালমারা বাজারের সন্নিকটের বাসিন্দা ৮৩ বছর বয়সী আলহাজ্ব বজলার রহমান জানান, এই পাইকড়ের গাছটির বয়স প্রায় ২শত বছর হবে। আমার জানামতে এই গাছটি বিজেশ্বর বানিয়া নামের এক ভদ্রলোক রোপন করেছিলেন। হোটেল ব্যবসায়ী মানিক, রুবেলসহ অনেকে জানান, আল্লাহর রহমতে প্রানে বেঁচে গেছি, আমরা সকালে দোকানে নাস্তা তৈরী করছিলাম এমন সময় গাছ ভেঙ্গে পড়ার শব্দ শুনতে পাই। আমরা গাছটি আমাদের দোকানের উপর পড়ে যেতে দেখে কাস্টমারসহ সেখান দ্রুত পালিয়ে যাই। এসময় গাছটি পড়ে আমাদের দোকান দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে যায়। এছাড়াও পাশের হোসাইন আহমেদ নাছিমের দোকান ঘরেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থরা অবকাঠামো নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেছেন।

বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় শালমারা বাজারটির সাথে আশেপাশের এলাকার যোগাযোগ বাবস্থা আগের তুলনায় বর্তমানে অনেকটা ভাল হয়েছে। এ কারনে বাজারটিতে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেমন বেড়েছে সেইসাথে বাজারের উপর দিয়ে বয়ে চলা এই পথ দিয়ে বেড়েছে চলাচল। শালমারা বাজারের মধ্যস্থলে বেশ কয়েকটি শতশত বছর বয়সী বট,পাইকড়সহ নানা প্রজাতির গাছ রয়েছে যা বর্তমানে অতি ঝুকিপুর্ন হয়ে পড়েছে। বিশাল আকৃতির গাছ গুলোর কিছু অংশ শুকিয়ে যাওয়াসহ নষ্ট হয়ে গেছে। এরফলে আগামিতেও যেকোন সময় গাছ ভেঙ্গে পড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতিসহ প্রানহানির ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাসহ সচেতন মহল।

হাট ইজারাদার খায়ের ও আব্দুল হাকিম গং জানান, ইতি পুর্বের ইজারাদার ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর শালমারা বাজরে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ বট,পাইকড় গাছগুলো অপসারণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি। হাট ইজারাদার ও ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের বিপদ হবার আগেই বাজারের ঝুকিপুর্ন গাছগুলো অপসারণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।

পড়ে থাকা গাছটি অপসারণের বিষয়ে স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুস ছালাম বলেন, বৃষ্টির কারনে পড়ে থাকা গাছটি অপসারণে একটু সময় লাগছে,তবে হাটের ভিতরের গাছ গুলো কেটে ফেলা অতি জরুরী। এবিষয়ে পায়রাবন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ফয়জার রহমান খাঁন বলেন, শালমারা বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারে অবস্থিত ঝুকিপুর্ন গাছগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে অপসারণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। চলাচলের সুবিধার্থে বর্তমানে উপড়ে পড়া গাছটি অপসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জনান তিনি।