মিঠাপুকুরে মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন এর সরকারি বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ

আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহার মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিন এর নামে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তালিকায় ভুয়া মসজিদ, মোবাইল নম্বর এবং ভুয়া নাম দিয়ে বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে মিঠাপুকুর উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মকর্তারা গা ঢাকা দিয়েছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মিঠাপুকুর উপজেলায় ১ হাজার ১৬২ টি মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনের জন্য ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দকৃত টাকা সংশ্লিষ্ঠ মসজিদের সভাপতির মাধ্যমে বিতরন করা হয়। কিন্তু অনেক স্থানে মসজিদের জায়গায় গোডাউনঘর ও পুকুর থাকলেও ওই জায়গা গুলোকে মসজিদ দেখিয়ে ভুয়া নামে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের পরিপেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে ঘটনার সত্যতাও পাওয়া যায়। বালুয়া মাসুমপুর ইউনিয়নের ফকিরপাড়া ওয়াক্তিয়া জামে মসজিদ, পূর্ব খিয়ারপাড়া ওয়াক্তিয়া জামে মসজিদ, পূর্ব খিয়ারপাড়া নামাজঘর মসজিদ, নুতুন খিয়ারপাড়া ওয়াক্তিয়া জামে মসজিদ, হামিদপুর তালতলা জামে মসজিদ, চান্দটারী উত্তরপাড়া জামে মসজিদ, চান্দটারী জামে মসজিদ, বালুয়া পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ, বালুয়া কেন্দ্রীয় মসজিদ, ভাটারপাড়া জামে মসজিদ ও হামিদপুর জামে মসজিদের নাম বরাদ্দের তালিকায় থাকলেও তাদের মোবাইল নম্বর না দিয়ে অন্য মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেই ভুয়া মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা উত্তোলনের তালিকায় মসজিদ গুলোর নাম থাকলেও এখানকার ইমাম, মুয়াজ্জিন ও সভাপতি কিছুই জানেন না। একই অভিযোগ বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের। বেশ কয়েকটি মসজিদের ঠিকানা অনুযায়ী খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সেখানে গোডাউন, মুরগির খামার ও পুকুর রয়েছে বাস্তবে মসজিদ নেই।

অনেক মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন বলেন, মসজিদগুলোতে অর্থ বিতরণের দায়িত্বে ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সুপারভাইজার কোরবান আলী। তিনি কৈাশলে মিঠাপুকুর ইসলামিক ফাউণ্ডেশন এর আওতাভুক্ত স্থানীয় একটি মসজিদের শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক সেকেন্দার আলীর সহযোগিতা নিয়ে নামে-বেনামে থাকা গোডাউন, মুরগির খামার ও পরিত্যক্ত পুকুরের স্থানে মসজিদের নাম বসিয়ে টাকা উত্তোলন করেছেন। একই সঙ্গে কোরবান আলীর আত্মীয়-স্বজনদের মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন হিসেবে নাম দিয়ে টাকা তোলা হয়েছে। এভাবে শত শত মসজিদের নামে এবং ভুয়া মসজিদ দেখিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিঠাপুকুর উপজেলা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মিঠাপুকুর উপজেলা কার্যালয়ে যোগাযোগের জন্য গেলে অফিসটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে মিঠাপুকুর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার বলেন, ইমাম মোয়াজ্জিনের জন্য মসজিদ প্রতি ৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিন টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এমনকি ভুয়া মসজিদের নাম করে টাকা তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভুঁইয়া জানান, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাৎ করার করার অভিযোগ এসেছে। তদন্ত করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিনের বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাৎ করার সাথে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।