মিঠাপুকুরে ব্র্যাক সীডের নিম্নমানের বীজ সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের রোষানলে দুই কর্মকর্তা

আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নয়াপাড়া,পাইকানসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামে মানহীন ও নষ্ট শসার বীজ রোপন করে প্রতারিত হয়েছেন অসংখ্য কৃষক। আর এসব বীজ সরবরাহে বিতরণ ও বিক্রয় কাজে নিয়োজিত বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের দুই কর্মকর্তাকে আটক করে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা।

৫ এপ্রিল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আজ ব্রাকের স্থানীয় টেরিটরি অফিসার এবং কৃষি অফিসার ঘটনাস্থলে আসেন। পরে তাদেরকে বিষয়টি বলার মধ্যেই সুমন নামের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে চাষীরা টেরিটরি অফিসার নূর আলম এবং কৃষি কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন কে আটকে রাখে এবং তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার অঙ্গীকারনামা নিয়ে ছেড়ে দেয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রব জানান, আগে অন্য কোম্পানির বীজ নিতেন কিন্ত এ বছর স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী নাসরুল এর মাধ্যমে ব্রাক এর শসার বীজ জমিতে রোপণ করেন কিন্তু শসা নষ্ট হয়ে গেছে এবং ভাল ফলন হচ্ছে না। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এমনিতেই করোনার জন্য কোন ধরনের সবজির দাম পাচ্ছি না তার ওপর আমাদের এত বড় ক্ষতি হলো।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষী ফখরুল ইসলাম জানালেন ৮০ শতক জমিতে বীজ নিয়ে তিনি শসা চাষ করেছেন যার অনেকটা ক্ষেতই নষ্ট হয়ে গেছে। এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনায় তিনি চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষী গোলাম রব্বানী জানান, আমরা ব্র‍্যাক এর কাছ থেকে লোন নিয়ে এই আবাদ করেছি কিন্তু ক্ষেত পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেল এখন আমরা খাব কি এবং কিস্তি কিভাবে পরিশোধ করব।

অপর ক্ষতিগ্রস্ত চাষী আসাদুজ্জামান জানান, আমি ৪০ হাজার টাকা ব্রাক এর কাছ থেকে লোন নিয়েছি কিন্তু আমার ফলন হয়নি এ অবস্থায় আমি আমার পরিবার পরিজন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছি।

এ ব্যাপারে ব্রাকের স্থানীয় টেরিটরি অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, খারাপ বীজের কারণেই শসা গুলো নষ্ট হয়ে গেছে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমরা তাদের সাথে সমঝোতা করার চেষ্টা করছি।

ব্র‍্যাকের স্থানীয় কৃষি অফিসার মোঃ মুরাদ হোসেন জানান আমরা মাঠ পরিদর্শন করে দেখেছি যেগুলো নষ্ট হয়ে গেছে এখন যদি সেটি কোন ওষুধ দিয়েও করা যায় তবুও কাঙ্খিত ফলন হবে না বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।