মিঠাপুকুরে বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বাড়ি ও পুকুর খননের অভিযোগ

আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুরে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে বতববাড়ি নির্মানসহ পুকুর খনন ও চাউলকল স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জানকীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। যা এখনও দখলমুক্ত হয়নি।

এ ঘটনায় এলাকায় অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসি বিদ্যালয়ের মাঠ দখলমুক্ত করতে শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগ ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মিলনপুর ইউনিয়নের জানকীপুৃর গ্রামে ১৯০০সালে ৬১ শতাংশ জমির উপর জানকীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ের পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে একটি খেলার মাঠ রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনসহ এলাকার শিক্ষার্থী, কিশোর ও যুবকরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন।

বিদ্যালয়টির মাঠের পাশে প্রভাবশালী রুহুল আমিনের বসতবাড়ি। তার বসতবাড়ির সাথেই পুকুর ও চাউল কল রয়েছে। এর ফলে ওই বিদ্যালয়ের মাঠের প্রায় ৫ শতক জমি দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, পুকুর খনন ও চাউল কল নির্মাণ করার অভিযোগ রয়েছে। পুকুরটির পাড় ভাঙ্গনের ফলে বিদ্যালয়ের মাঠ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। মাঠের পাশে তাঁর স্থাপিত চাউলকলের কারণে শব্দ দুষণ হয়। চাউলকলে আগত লোকজন বিদ্যালয়ের সামনে ভীড় করায় লেখাপড়ায় বিরূপ প্রভাব ফেলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ ও স্থাপিত চাউলকলের শব্দ ও পরিবেশ দুষণের প্রতিবাদ করলে রুহুল আমিন ও তার লোকজন মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করে। তাই কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পায়না। তারা অবিলম্বে বিদ্যালয়ের জমি দখল মুক্ত করা সহ স্থাপিত চাউলকল অপসারনের দাবি জানান। বিদ্যালয়ের জমি দখলমুক্ত করতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম, স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম, আবু তাহেরসহ এলাকাবাসি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের জমি দখলে নেয়া অভিযুক্ত রুহুল আমিনের সংগে বিষয়টি নিয়ে কথা বললে জানান, ‘আমি ত্রিশ বছর আগে বসতবাড়ি নির্মাণ ও চাউলকল স্থাপন করেছি। কেউ বাধা দেয়নি। এখন নতুন ম্যাপের সীমানা অনুযায়ী নাকি আমার বাড়ির কিছু অংশ বিদ্যালয়ের জমিতে পড়েছে। যদি পড়ে থাকে, তাহলে তো আর বাড়ী ভেঙ্গে দেয়া যায় না। উত্তর পাশে আমার জমি রয়েছে সেখান থেকে বিদ্যালয়ে জমি দেব। প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, রুহুল আমিনের বসতবাড়ি বিদ্যালয়ের জায়গায়-এটা আগে জানতাম না। পরে মাপজোক করে বিষয়টি জানাজানি হয়। পুকুরটি ভাংতে ভাংতে বিদ্যালয়ের মাঠের কিছু অংশে এসেছে।

উত্তরপাশে রুহুল আমিনের জমি আছে। সেই জমি থেকে জমি বদল করার কথা বলেছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আশরাফুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ হয়েছে। অথচ প্রধান শিক্ষক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান নি। এটা তার দায়িত্ব ছিল। উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ভূমি অফিস থেকে সার্ভেয়ার সেখানে গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। আরও তদন্ত চলছে। আশা করি খুব দ্রুত বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার হবে।