মিঠাপুকুরে কেঁচো সার উৎপাদনে কৃষকের সাফল্য, দেশজুড়ে বাজারজাত করণের দাবি

আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি:  রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে সাড়া ফেলেছে ভার্মি কম্পোষ্ট কেঁচো সার উৎপাদন কার্যক্রম। প্রাকৃতিক পরিবেশে এই জৈবসার তৈরি করার কারণে সাফল্য যেন হাত ছানি দিয়ে ডাকছে অনেক কৃষককে। এই সার উৎপাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে চান উদ্যোক্তা আজিজার রহমানসহ অনেকেই।

তবে এই সারের দাম ও বাজারজাত করা নিয়ে চিন্তিত উদ্যোক্তরা। কেঁচো সার শুধু এলাকা ভিক্তিক নয় বরং দেশজুড়ে বাজারজাত করনের দাবি উৎপাদনকারীদের। শুরুতেই ছোট পরিসরে এই সার উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হলেও বর্তমানে বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত এই সার। ফলে অনেক জায়গায় বাণিজ্যিক আকারে গড়ে তোলা হয়েছে ভার্মি কম্পোষ্ট সার কারখানা। জমি ও ফসলের গুনগত মান রক্ষায় বেশ কার্যকরী হওয়ার ফলে এলাকা ভিক্তিক উৎপাদিত কেঁচো সার কৃষকের নিকট বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের মরহুম হাজী আঃ করিমের ছেলে আজিজার রহমানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি শুরুতেই সামান্য কিছু কেঁচো দিয়ে ছোট পরিসরে ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহন করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় কৃষকদের নিকট ওই সার জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এরপর কৃষি অফিসের সহযোগিতায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে ১০০টি গোলাকার রিং বসিয়ে শুরু হয় কেঁচো সার উৎপাদন। রিং প্রতি গড়ে ৪ কেজি পরিমানে কেঁচোর সাথে গোবর মিশিয়ে উৎপাদন হয় এই সার। এসব রিং থেকে প্রতিমাসে গড়ে ৫ টন কেঁচো সার উৎপাদন হওয়ার কথা জানান সিআইজি গ্রুপের সভাপতি কৃষক আজিজার রহমান।

তিনি আরোও জানান, প্রতি টন সার ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। এতে উৎপাদন ব্যায় মিটিয়ে মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় হয়। কিন্তু পাশ্ববর্তী বেশকিছু এলাকায় কেঁচো সার উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বর্তমান বিক্রি কিছুটা কমেছে। এরফলে প্রতি মাসে উৎপাদিত কেঁচো সার মজুত থাকার কারণে অর্থনৈতিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে সরকারীভাবে উদ্যোগ নিয়ে উৎপাদিত সারগুলো শুধুমাত্র এলাকা ভিত্তিক না হয়ে দেশজুড়ে বাজারজাত,বিপণন ও সম্প্রসারণের ব্যবস্থা করলে রাসায়নিক সারের চাপ কমবে বলে জানান এই কৃষি উদ্যোক্তা ।

কৃষক আজিজার রহমান, জেসমিন বেগম, সুর্য্য বেগম,শফিকুল মিয়া, ছিদ্দিক হোসেন ,শহিদুল ইসলামসহ কেঁচো সার উৎপাদনকারী অনেকে জানান, দেশজুড়ে এইসার উৎপাদন ও বাজারজাত করার ব্যাবস্থা করা হলে একদিকে আমরা যেমন লাভবান হবো পাশাপাশি কৃষকও অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ে চাষাবাদ করতে পারবে। এবিষয়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান যাদু, জাকির হোসেন ও পরিমল চন্দ্র বলেন,উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের এনএটিপি-২সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহযোগিতায় জৈব কেঁচোসার উৎপাদনকারীদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

আমরা এই সার জমিতে প্রয়োগ করার জন্য মাঠপর্যায়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আসছি। আশাকরি এই সারের চাহিদা আরো বাড়বে আর চাহিদা বাড়লে সার মজুদ থাকার কারণে যে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে তা আর থাকবে না।