মিঠাপুকুরে কৃষির আধুনিকায়ন চলতি মৌসুমে কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন পেয়ে খুশি কৃষক

আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় কৃষিতে আধুনিক মেশিন ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে অল্পসময়ে ধান কাটা, মাড়াই থেকে সকল প্রক্রিয়া শেষে বস্তা পর্যন্ত করা হচ্ছে এই মেশিন দিয়ে।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে শ্রমিক স্বল্পতায় ফসল ঘরে তোলা নিয়ে চিন্তিত কৃষককে আশার আলো দেখাচ্ছে কম্বাইন হারভেষ্টার।

জমিতে সোনালি ফসল ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কৃষকদের উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি কম্বাইন হারভেষ্টার জনপ্রিয় করার লক্ষে ৩০মে শনিবার উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামে কৃষিতে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কম্বাইন হারভেষ্টার যন্ত্রের মাধ্যমে বোরো ধান ও নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আনোয়ার হোসেন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর এর উপপরিচালক ড.মোঃ সওয়ারুল হক। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কে.এম.তারিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর অঞ্চল,রংপুর এর অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী, মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মামুন ভূঁইয়া।

আরোও বক্তব্য রাখেন কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ কৃষক কৃষাণী বৃন্দ। প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ বর্তমান সরকারের কৃষিতে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন এবং মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষিতে অনবদ্য অবদান এর ভূয়শী প্রশংসা করেন। উপস্থিত কৃষকগণ প্রথমবারের মতো এ ধরণের ধান সংগ্রহের মেশিন দেখে উৎফুল্ল হন এবং কৃষির উন্নয়নে মিঠাপুকুর উপজেলায় আরো বেশি সংখ্যক কম্বাইন হারভেষ্টার ভর্তুকিমূল্যে সরবরাহ দেয়ার অনুরোধ জানান। এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক মোঃ হারুন অর রশীদ এর জমিতে নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার রংপুর সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।

ধান সংগ্রহের জন্য হারভেষ্টার মেশিন কৃষকদের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, কম্বাইন হারভেষ্টারের মাধ্যমে প্রতি ঘন্টায় এক একর জমির ধান একই সাথে কাটা,মাড়াই, ঝাড়াই ও বস্তাবন্দি করা যায়। একদিনে হারভেষ্টার দিয়ে ১০ একর পর্যন্ত জমির ধান কাটতে খরচ মাত্র ১২-১৫ হাজার টাকা। প্রথাগত পদ্ধতিতে যার খরচ প্রায় ১ লক্ষ টাকা ফলে কম্বাইন হারভেষ্টারের মাধ্যমে ১০ একর জমির ধান কাটার মাধ্যমে ১৫০ এর অধিক শ্রমিক বা প্রায় ৫৫ হাজার টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব । যন্ত্রটি কৃষকের দোড়গোড়ায় সহজলভ্য করার জন্য বর্তমান কৃষি বান্ধব সরকার প্রতিটি যন্ত্রে ৫০% ভর্তুকী দিচ্ছে। এ বছর ভতুর্কির আওতায় মিঠাপুকুর উপজেলায় ৪ টি কম্বাইন হারভেষ্টার কৃষকদের নিকট সরবরাহ করা হয়েছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে মিঠাপুকুর উপজেলায় ৩৩০০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬০% জমির ধান কর্তন হয়েছে বলেও জানান তিনি।