মিঠাপুকুরে এক চিকিৎসকসহ দুইজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত

অমিরুর কবির সুজন, মিঠাপুকুর প্রতিনিধি: রংপুরের মিঠাপুকুরে একজন চিকিৎসক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। রংপুর সিভিল সার্জন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯১ জনের করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ সনাক্ত হওয়া ৩ জনের মধ্যে ওই চিকিৎসকের শরীরে করোনা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া যায়। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিভাগে কর্মরত একজন চিকিৎসক। মিঠাপুকুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর নাম ডাঃ মো: আব্দুর রউফ হালিম ওরফে লাবলু। চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ায় মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন হতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট সুত্র বলছেন এখনো এ বিষয়ে আমরা কোন কথা বলতে পারছি না। উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী ব্যাবস্থা নেয়া হবে। রংপুর জেলায় করোনাভাইরাসে এ পর্যন্ত ৫ জন সনাক্ত হয়েছে এরমধ্যে সর্বপ্রথম মিঠাপুকুর উপজেলায় একমাত্র সনাক্ত হওয়া স্কুলছাত্রের বাড়ি বালারহাট ইউনিয়নের বুজরুক ঝালাই খন্দকারপাড়া গ্রামে। ওই ছাত্রের শরীরে করোনা ধরা পড়ার খবরে পুরো উপজেলা জুড়েই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সংক্রমিত এলাকার ১৬টি বাড়ি লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে।

১৯ এপ্রিল রংপুর সিভিল সার্জন এর তথসুত্রে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯১ জনের করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ সনাক্ত হওয়া ৩ জনের মধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিসিন বিভাগে কর্মরত একজন চিকিৎসকের শরীরে করোনা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া যায়।

 

এরপর উপজেলার জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে তাই করোনাভাইরাসে সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দের উদ্যোগে গ্রামের পর গ্রাম লকডাউন করা হয়েছে বলে জানান অনেকেই। গতকাল রবিবার পর্যন্ত বহিরাগতদের অবাধ চলাচল মোকাবেলায় সচেতনতার পাশাপাশি ৮০টিরও বেশি গ্রামের প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে এলাকাবাসি। ইতিমধ্যে অনুমোতি না নিয়ে লকডাউন না করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মিঠাপুকুর উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মামুন ভুঁইয়া সংক্রমিত স্কুলছাত্রের বাড়িসহ ১৬টি বাড়ি লকডাউন করে দেন। এরপর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে গ্রামবাসি। নয়াপাড়া গ্রামের মুন্না ও মোশরেফুল মিয়া বলেন, আমাদের গ্রামে এক বাড়িতে বহিরাগত ছেলে-মেয়ে কয়েকদিন থেকে একটি বাড়িতে বসবাস করতে থাকে। বিষয়টি গ্রামবাসী জানতে পেরে তাদেরকে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

 

এছাড়াও ঢাকা-চট্রগ্রাম,নারায়ণগঞ্জ থেকে আগত অনেকে গ্রামে আসছেন এজন্য গ্রাম সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে স্থানীয় যুব সমাজ ও এলাকাবাসী সম্মিলিত প্রয়াসে বহিরাগত লোকদের প্রবেশের বিষয়ে সচেতনতা জোরদার করা হয়েছে। এজন্য গ্রামের প্রবেশ পথে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। একই কথা বলেন, বড় মির্জাপুর গ্রামের সাইমুন ইসলাম, কাঁঠালী গ্রামের শেখ সাদী সরকার, মুনশিপারা গ্রামের রাজুসহ অনেকে। এছাড়াও বাতাসন দুর্গাপুর, ময়েনপুর, চক দুর্গাপুর, গেনারপাড়া, কাশিপুর, কৃষ্ণপুর, সেরুডাঙ্গা, লাট কৃষ্ণপুর, শাল্টিপাড়া, সহ অন্তত অর্ধ শতাধীক গ্রামে এলাকাবাসি প্রবেশপথে ব্যারিকেড দিয়েছেন।’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মামুন ভুঁইয়া বলেন, এরকম খবর আমিও জানতে পেরেছি। এর ফলে, জরুরী স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণসহ অন্যান্য কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই, নিজ উদ্যোগে কেউ রাস্তা বন্ধ করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।