মিঠাপুকুরে অসহায় মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২০ হাজার টাকা দিলেন মুচি রবিদাশ

আমিরুল কবির সুজন, মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি: করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাড়ালেন মিলন রবিদাশ। জুতা সেলাই করে সংসার চলে তার। সোমবার (২৭ এপ্রিল) মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভূঁইয়ার হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন রবিদাস।

জানা গেছে , করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে অনেক মানুষ ঘরবন্দি দিনযাপন করছেন। দুর্ভোগ বেড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের। সরকারের পাশাপাশি অনেক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষকে সহযোগীতা করছেন।

দেশের এই দূর্যোগের সময় অসহায় মানুষের জন্য জুতা সেলাই করে নিজের জমানো টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দিয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত দেখালেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার লতিবপুর ইউনিয়নের আবদুল্লাহপুর গ্রামের দলিত সম্প্রদায়ের রবিদাশ।

৩৮ বছর বয়সের মিলন রবিদাস পেশায় একজন মুচি। জুতা সেলাই করে সংসার চলে তার। অভাব অনটনের কারণে বেশিদুর লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে সংসারের দায়িত্ব নেয় রবিদাস। আনুমানিক ২০ বছর আগে বাবা মতিলাল এর মৃত্যু হয় । রবিদাশ বাবার পেশাকে আঁকড়ে ধরে সংসারের ঘানি টানতে শুরু করেন। মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদের পাশে জুতা সেলাইয়ের দোকান দিয়ে বসেন তিনি।

সেখান থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বর্তমানে জেঠার জমিতে বসবাস করছেন তিনি। এক ছেলে আর এক মেয়ে স্থানীয় স্কুলে পড়েন।

ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ও সংসার খরচের পাশাপাশি অভাব-অনটনের মাঝেও দুই শতাংশ জমি কিনেছেন রবিদাশ কিন্তু অর্থ অভাবে সেই জমিতে এখনো বাড়িঘর করতে পারেননি তিনি।

এ বিষয়ে মিলন রবিদাস বলেন, দেশে অনেক সময় অনেক দুর্যোগ দেখেছি।করোনার ভাইরাসের কারণে অসহায় মানুষের কষ্ট আমাকে ভাবিয়ে তোলে। জুতা সেলাই করে কিছু টাকা জমিয়েছিলাম ঘরবাড়ি করার জন্য। কিন্তু করোনার দুর্যোগে না খেয়ে থাকা মানুষের কষ্ট দেখে আমার ঘর করার ইচ্ছা মরে গেল।

আমার মনে হলো বেঁচে থাকলে ঘরবাড়ি হবে এই মুহুর্তে অসহায় মানুষের সহযোগিতা করা উচিৎ তাই দীর্ঘদিনের জমানো ২০ হাজার টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দিয়ে দিলাম। অসহায় মানুষের জন্য দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান করে তিনি বলেন। আশা করি, এতে একটু হলেও দরিদ্র মানুষের উপকার হবে।